ভাঙড় কলেজে চরম উত্তেজনা! সভাপতি সায়ন্তনকে ঢুকতে বাধা দিতে গিয়ে এসএফআই-আইএসএফ বনাম এবিভিপি সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ পুলিশের

সপ্তাহের প্রথম দিনেই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড় কলেজ। পরিচালন সমিতির নতুন সভাপতি তথা বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু কলেজে প্রবেশ করতে গেলে তাঁকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখান এসএফআই (SFI) ও আইএসএফ (ISF) সমর্থিত পড়ুয়াদের একাংশ। মূল গেট আটকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। এর পালটা হিসেবে কলেজের বাইরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবিভিপি (ABVP)-র সদস্যরা। দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও স্লোগান-পালটা স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কলেজ চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ।
কী ঘটেছিল ঠিক কী কারণে?
পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবারই প্রথমবার কলেজে যাওয়ার কথা ছিল সায়ন্তন বসুর। পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠকে যোগ দিতে তিনি কলেজে পৌঁছানোর আগেই মূল গেটের সামনে জমায়েত হন বিক্ষোভকারীরা। গেট বন্ধ করে দেওয়ায় বিজেপি নেতাকে বেশ কিছুক্ষণ গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। অন্যদিকে, এবিভিপি কর্মীরাও চত্বরে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ প্রথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। তবে বিক্ষোভ না কমায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে ভিড় সরিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সায়ন্তন বসুকে কলেজের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অধ্যাপক-অধীক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন।
আগের অশান্তির রেশ এবং রাজনৈতিক তরজা
উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক আগেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর আইএসএফ ও এবিভিপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে অন্তত ৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সায়ন্তন বসুর প্রথম কলেজ ভিজিট ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। এসএফআই ও আইএসএফ শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ, কলেজে কোনওভাবেই বহিরাগত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। পালটা এবিভিপি-র দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিবেশ অশান্ত করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের টানাপোড়েনে ভাঙড় কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় সাধারণ পড়ুয়ারা।