৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে নৃশংস খুন! মহানন্দা নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়া ৪ বছরের সেই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় দিল আদালত

দীর্ঘ প্রায় চার বছরের আইনি লড়াই ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঞ্চল্যকর শাহরুল অপহরণ ও হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ না পাওয়ার জেরে অপহরণের পর এক যুবককে নৃশংসভাবে খুন করে মহানন্দা নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়ার অপরাধে মোট ৬ জন অভিযুক্তকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিহারের কাটিহার জেলার অতিরিক্ত দায়রা জজ পঞ্চম বিজেন্দ্র কুমারের আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল চার বছর আগে?

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের কাটিহার জেলার আজমনগর থানা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাকিলের ছেলে শাহরুল হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান। ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি প্রাথমিক নিখোঁজ ডায়েরি বা এফআইআর দায়ের করা হয়। আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে পরিবারের লোকজন রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। এর ঠিক দু’দিন পর, অর্থাৎ ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পরিবারের অভিযোগে অপহরণের মামলা রুজু করে পুলিশ।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়ার আগে এক ব্যক্তি শাহরুলকে ফোন করে নির্দিষ্ট জায়গায় দেখা করতে বলেছিল। এই ফোন কলের সূত্র ধরেই তদন্তের জাল গোটাতে শুরু করে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হয় কল ডিটেলস ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ। আর তাতেই বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর এক তথ্য। পুলিশের জালে একে একে ধরা পড়ে অপরাধীরা।

৫০ লক্ষ টাকার মুক্তিপণ ও নির্মম পরিণতি

তদন্তে উঠে আসে, পরিকল্পিতভাবে শাহরুলকে অপহরণ করার পর তাঁর পরিবারের কাছে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল অপহরণকারীরা। কিন্তু সেই মোটা অঙ্কের টাকা দিতে ব্যর্থ বা অস্বীকার করায় অভিযুক্তরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এরপর প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্যে তাঁর মৃতদেহ সোজা মহানন্দা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

এই চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা আইনি প্রক্রিয়ায় সমস্ত তথ্যপ্রমাণ, কল রেকর্ড ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আজমনগর থানার দিঘালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওই ছয় অভিযুক্ত— মোহাম্মদ গুলজার, প্রতাপ সিং, মোহাম্মদ ইমাম, বিভীষণ সিং, মিথিলেশ কুমার সিং এবং শেখর সিংকে সম্পূর্ণ দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাদের প্রত্যেককে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে। চার বছর পর এই রায়ের ফলে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে নিহত শাহরুলের পরিবার, যা ন্যায়বিচারের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।