‘ভাই-বোনের অন্তর্ঘাত নাকি বঢরা পরিবারের লডাই?’ প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর দাবি, অস্বস্তিতে সোনা-রাহুলরা

আসন্ন ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন ও চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক তত্ত্ব সামনে নিয়ে এল শাসকদল বিজেপি। কংগ্রেসের অন্দরে নাকি ক্ষমতার শীর্ষ দখলকে কেন্দ্র করে খোদ গান্ধী পরিবারের অন্দরেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভাই-বোনের তীব্র লড়াই! রাহুল গান্ধী বনাম প্রিয়াঙ্কা গান্ধী—এই দুই শিবিরে কার্যত দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে শতাব্দী প্রাচীন দল কংগ্রেস। সম্প্রতি রাজধানীর বুকে ইন্ডি জোটের কর্মসূচিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে, এমনই মারাত্মক দাবি তুলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ মুখপাত্ররা।

মক পার্লামেন্ট ও রামলীলা ময়দানের ঘটনা ঘিরে বিতর্ক: গত শনিবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতীকী ইমপিচমেন্ট করতে ইন্ডি জোটের পক্ষ থেকে একটি ‘মক পার্লামেন্ট’ বা কৃত্রিম সংসদের আসর বসানো হয়েছিল। এর ঠিক পরেই গত রবিবার ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে নির্বাচনী কারচুপি ও ভোটার তালিকা সংশোধনের অভিযোগে এক বিশাল জনসভা ও মিছিল করে বিরোধী জোট।

আর এই দুটি অনুষ্ঠানেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে ঘটা বঞ্চনা ও তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বলতে না দেওয়ার অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতারা।

কী দাবি করলেন সম্বিত পাত্র ও প্রদীপ ভাণ্ডারি? রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র সরাসরি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে গান্ধী পরিবারের অন্দরেই ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। সম্বিত পাত্রের প্রশ্ন, “মক পার্লামেন্টে এমন তিন নেতাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলো যাঁরা সাংসদ নন, অথচ দলের সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে কেন একটি কথাও বলতে দেওয়া হলো না? আজও রামলীলা ময়দানে সবাই বক্তব্য রাখলেন, কিন্তু দৃশ্যতই হতাশ ও অখুশি প্রিয়াঙ্কাকে ব্রাত্য রাখা হলো। তবে কি গান্ধী পরিবারেই নতুন রাজনীতির খেলা শুরু হয়েছে? নেত্রী হিসেবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর উত্থান ঘটলে নিজের অবস্থান হারানোর ভয়ে রয়েছেন রাহুল?”

একই সুরে আক্রমণ শানিয়ে বিজেপির আর এক মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি দাবি করেন, কংগ্রেসের ভেতরে ইতিমধ্যেই ‘রাহুল শিবির’ ও ‘প্রিয়াঙ্কা শিবির’ তৈরি হয়ে গেছে। দলের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বজায় রাখতেই রাহুলের অনুগামীরা প্রিয়াঙ্কাকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে সরিয়ে রাখছেন বলে তাঁর দাবি। ভাণ্ডারির আরও কটাক্ষ, “কংগ্রেস পার্টির অন্দরে কি ভাই ও বোনের এই দ্বন্দ্ব আসলে গান্ধী পরিবার বনাম বঢরা পরিবারের লড়াই? চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে প্রিয়াঙ্কাকে কোণঠাসা করার নীতি নিয়েছে রাহুল শিবির।”

নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে বিজেপির এই বহুমুখী আক্রমণ এবং কংগ্রেসের অন্দরের অন্তর্দ্বন্দ্বের তত্ত্ব বিরোধী শিবিরের অস্বস্তি যে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।