ব্রিকসের মঞ্চে বড় ঘোষণা! মোদী-রামাপোসা বৈঠকে কোন কৌশলগত সমীকরণে বদলাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি?

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা। চলমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং বাণিজ্যিক গতির মধ্যে দুই নেতার এই বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্মেলনের ফাঁকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাপোসা বর্তমান সময়কে বৈশ্বিক অর্থনীতির এক ‘গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ’ (inflection point) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতি যেভাবে বদলাচ্ছে এবং জলবায়ুর চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে আরও বেশি করে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নশীল দেশগুলি বিশ্ববাজারে কেবল কাঁচামাল সরবরাহকারী এবং বিদেশি পণ্যের ক্রেতা হিসেবেই কোণঠাসা হয়ে রয়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস গোষ্ঠীর অন্দরে আর এই ধারা চলতে দেওয়া যায় না বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদক স্তরে বা প্রোডাকশন লেভেলে গভীর অর্থনৈতিক পার্টনারশিপ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন রামাপোসা। বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক বিকাশ সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। এদিন শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই নয়, ব্রিকস সম্মেলনের ব্যস্ত সূচির মাঝে উগান্ডার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেসিকা আলুপো এবং ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ আর. মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গেও পৃথকভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পাশাপাশি, বিশিষ্ট শিল্পপতি নবীন জিন্দালও এই সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট রামাপোসার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার যৌথ বাণিজ্যিক সম্পর্ক, কৌশলগত বিনিয়োগ এবং শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সবমিলিয়ে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন যে গ্লোবাল সাউথের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠতে চলেছে, এই বৈঠকগুলি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।