‘বোতলের দৈত্যকে নিজেই ডেকে এনেছে বামেরা!’ কুণাল ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্যে চরম রাজনৈতিক শোরগোল

রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় আবারও এক তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক বিস্ফোরক মন্তব্য। শুক্রবার এক বিশেষ রাজনৈতিক সাক্ষাৎকারে বামেদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে, বামপন্থীদের অবিলম্বে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত ভূমিকা নিয়ে গভীর আত্মবিশ্লেষণ বা আত্মসমালোচনা করা উচিত। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির রাজনৈতিক আক্রমণ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অতিসক্রিয়তা এবং ভোট-পরবর্তী হিংসার বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম শিবিরের একাংশ যেভাবে প্রচ্ছন্ন উল্লাস বা মজা নিয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি।
কুণাল ঘোষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এক সময় রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বা অন্ধ দলীয় প্রতিহিংসার বশে বামেদের একাংশ বিজেপি নামক যে শক্তির হাত ধরেছিল, আজ সেই শক্তিই তাদের নিজেদের অস্তিত্বের পক্ষে সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “বোতলের দৈত্যটাকে এভাবে বাইরে বের করে ফেলা উচিত হয়নি।” অর্থাৎ, যে রাজনৈতিক শক্তিকে তাঁরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিলেন, আজ সেই দানবীয় শক্তির কাছেই তাঁরা কোণঠাসা। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তৃণমূল নেতা উল্লেখ করেন, কোলকাতার বুকে লেনিন সরণির নাম পরিবর্তনের তীব্র দাবি তোলা হোক কিংবা বইমেলা বা বিভিন্ন প্রকাশনীর স্টলে ভাঙচুরের ঘটনা অথবা আদালত চত্বরে বামপন্থী নেতা ও প্রবীণ আইনজীবীদের ওপর শারীরিক আক্রমণের ঘটনা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই উগ্র ডানপন্থী শক্তিগুলির আক্রমণাত্মক মনোভাব স্পষ্ট। অথচ, এই দলগুলির মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বামপন্থীরা কোথায় এবং কী ধরনের কৌশলগত ভুল করেছিলেন, তা আজ তাদের নিজেদেরই মূল্যায়ন করা দরকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য নেহাতই কথার কথা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি গভীর রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। অতীতে বাম ভোটার ও কর্মীদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আশায় বিজেপিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে বেছে নিয়েছিল বা পরোক্ষ সমর্থন জুগিয়েছিল। আজ সেই সমস্ত ঘটনা যে সুদূরপ্রসারী এবং বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে এনেছে, তা বাম নেতৃত্বকে মনে করিয়ে দিতে চাইছে শাসক শিবির। সঠিক সময়ে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে না পারার ফলেই যে আজ বামেরা নিজেদের দুর্গ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য সেই ঐতিহাসিক ব্যর্থতার দিকটিকেই জোরালোভাবে সামনে নিয়ে এল। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই তির্যক ও বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে।