বিহারে ভোরের এনকাউন্টারে থরথর কাঁপল গঙ্গা তীর! মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের শেষ করল পুলিশ, রক্তাত ওসি

বিহারে রাজধানী পাটনার অদূরে ভোরের আলো ফুটতেই এক রোমহর্ষক এনকাউন্টারে থরথর করে কেঁপে উঠল গঙ্গা তীর। শুক্রবার ভোরে পাটনার দানাপুরের মনের থানা এলাকার শেরপুর গঙ্গা নদীর পাড়ে পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) সঙ্গে দুষ্কৃতীদের এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ ঘটে। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা এই তুমুল এনকাউন্টারে বিহারের তিন কুখ্যাত অপরাধী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। নিহত গ্যাংস্টারদের নাম জেপি যাদব, রাজা শর্মা এবং বাবলু কুমার। তিনজনেই পাটনা পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় নথিভুক্ত ছিল। সংঘর্ষে অপরাধীদের ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মনের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

পুলিশ ও এসটিএফ সূত্রের খবর, বিহারের প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল ক্রেডিট সোসাইটি (PACS)-এর সভাপতি সঞ্জিত কুমারকে গত দুর্গোৎসবের সময় অতি নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল এই অপরাধী চক্রটি। এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল পুলিশ ও এসটিএফ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর মেলে যে শেরপুর গঙ্গার চরে গ্যাংস্টাররা ডেরা বেঁধে লুকিয়ে রয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই এসটিএফ ও মনের থানার পুলিশ যৌথভাবে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান শুরু করে।

শুক্রবার ভোর আনুমানিক ৪টে ৩০ মিনিট নাগাদ পুলিশ দুষ্কৃতীদের ডেরার কাছে পৌঁছাতেই অপরাধীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। অপরাধীদের তরফ থেকে প্রায় ২৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা জবাবে ১৮ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। দুষ্কৃতীদের অতর্কিত গুলিতে মনের থানার ওসি জখম হন। ২০ মিনিটের বন্দুকযুদ্ধের শেষে ৩ কুখ্যাত দুষ্কৃতী গুলবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা থাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।