বিশ্ব অর্থনীতি কাঁপাতে মোদির ৩ মাস্টারস্ট্রোক! ব্রিক্স সম্মেলনে কোন ঐতিহাসিক ফর্মূলা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

রাজধানীতে আয়োজিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রিক্স (BRICS) সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে এক স্পষ্ট দিশা দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ব্রিক্স দেশগুলির গুরুত্ব ও দায়িত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বমঞ্চে গ্লোবাল ইনোভেশন এবং সলিউশনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এই দেশগুলি।

ব্রিক্সের অপ্রতিরোধ্য আর্থিক বৃদ্ধি প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, মোট জিডিপির (GDP) ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশের বেশি অংশীদারিত্ব রয়েছে ব্রিক্স দেশগুলির। বিগত কয়েক বছরে যেখানে বৈশ্বিক জিডিপি প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে, সেখানে ব্রিক্স দেশগুলির মোট জিডিপি বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। অর্থাৎ, বাকি বিশ্বের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ গতিতে এগিয়ে চলেছে ব্রিক্সের অর্থনৈতিক শক্তি।

প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া ৩টি বিশেষ ফর্মুলা: ব্রিক্স যখন তার তৃতীয় দশকে প্রবেশ করছে, তখন অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করতে তিনটি সুনির্দিষ্ট মন্ত্র বা পরামর্শ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি—

  • বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ: ব্রিক্স বিজনেস কাউন্সিলকে দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০টি বাণিজ্যিক বাধা (Trade Barriers) দূর করার জন্য একটি রেকর্ড গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

  • স্টার্টআপ এক্সচেঞ্জ ও সহায়তা: ব্রিক্সভুক্ত দেশগুলির মধ্যে অন্তত ১০০টি সেরা স্টার্টআপকে একে অপরের বাজারে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া।

  • নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব: ব্রিক্স দেশগুলির ব্যবসার পরিধি বাড়াতে অন্তত ১০০০টি নতুন পার্টনারশিপ বা অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই তিনটি মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করেই প্রতি বছর তাদের অগ্রগতির মূল্যায়ন করা হবে, যাতে ব্রিক্স নিজেই এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো বিশ্বকেও সঠিক পথ দেখাতে পারে।

পুতিনের নিশানায় জি-সেভেন (G7) এদিকে ব্রিক্স বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি জি-সেভেন গোষ্ঠী বা পশ্চিমা দেশগুলির অর্থনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে জি-সেভেনের প্রভাব ক্রমশ কমছে এবং ব্রিক্সের মতো উদীয়মান শক্তিগুলিই এখন বিশ্ব অর্থনীতির আসল গ্রোথ ইঞ্জিন। এছাড়া পশ্চিমা দেশের শত নিষেধাজ্ঞার পরেও রুশ অর্থনীতি যে বর্তমানে কতটা শক্তিশালী ও অটুট রয়েছে, সেই বিষয়টিও জোড়ালোভাবে তুলে ধরেন পুতিন।