উদ্বেগজনক তথ্য! চাল-গম উপচে পড়লেও ভারতের ৩৫ শতাংশ মানুষের কপালে জুটবে না সুষম খাদ্য!

বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা কেপিএমজি (KPMG)-র সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কড়া সত্য ফুটিয়ে তুলেছে। ‘ফিউচার অফ ফুড সিস্টেমস’ (Future of Food Systems) নামের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫.৫ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ৫২ কোটি মানুষ একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে সম্পূর্ণ অক্ষম হবেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভারত আজ গম, চাল ও দুধ উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ এবং দেশের মোট খাদ্য উৎপাদন অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও এমন বিভীষিকাময় পরিস্থিতি কেন তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কেপিএমজি-র ‘ফিউচার অফ ফুড সিস্টেমস’ রিপোর্ট

প্রতিবেদনে ভারতের খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের পুষ্টির প্রাপ্তির এক বিরাট ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য উৎপাদিত হওয়া সত্ত্বেও অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষের সুষম খাদ্যের অভাব—এই বৈপরীত্য খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে মূলত খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থার ত্রুটি, আয় বৈষম্য এবং পুষ্টিকর খাবারের আকাশছোঁয়া দাম। চাল ও গমের মতো প্রধান শস্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত বা উৎপাদিত হলেও ফলমূল, শাকসবজি, ডাল বা প্রোটিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার ফলেই এই বিশাল সংখ্যক মানুষ অপুষ্টির শিকার হতে চলেছেন।

ভারত কি তবে ভুল পথে এগোচ্ছে?

খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দেশের জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ যদি পুষ্টির ন্যূনতম মান থেকে দূরে থাকেন, তবে তা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাঠামোর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক সংস্থার এই রিপোর্ট দেশের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের সামনে এক বিরাট সতর্কবার্তা হিসেবে হাজির হয়েছে। সময়মতো খাদ্যবণ্টন নীতিতে সংস্কার না আনলে ভারতের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক গভীর স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।