বিয়ারের ক্যান হাতে স্টিয়ারিংয়ে কে এই চালক? আমদাবাদের এক বিভীষিকাময় রাতের খোদ পুলিশও হতবাক!

আমদাবাদের নিকোল এলাকায় একটি মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক সড়ক দুর্ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেবশ্য স্কুলের নিকটবর্তী একটি ফুটপাতে শান্তিতে বিশ্রামরত একটি হতদরিদ্র পরিবারের ওপর হঠাৎই কাল হয়ে আছড়ে পড়ে একটি বেপরোয়া ও নিয়ন্ত্রণহীন টয়োটা ফরচুনার গাড়ি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এক জননী এবং তাঁর তরুণ পুত্রের। নিহতদের পরিচয় যথাক্রমে ৩০ বছর বয়সী পুণমবেন নাগওয়াড়িয়া এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী কিশোর সন্তান সাগর নাগওয়াড়িয়া। একই সঙ্গে ওই দুর্ঘটনায় ৩৪ বছর বয়সি কার্তিক ভাসোয়া এবং তাঁর স্ত্রী স্নেহলবেন গুরুতর জখম হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করায়, যেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা।

ঘটনার তীব্রতা বুঝতে পেরে স্থানীয় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়ে ওঠে এবং ঘাতক ফরচুনার গাড়িটির চালককে দ্রুত গ্রেফতার করে। ধৃত চালকের নাম ভাইরালভাই সাভজিভাই চৌধুরী বলে জানিয়েছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, অভিযুক্তের গাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ ছয়টি আন ওপেনড বা না খোলা বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করেছে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর এই ভয়াবহ পরিণতি খতিয়ে দেখতে অভিযুক্ত চালকের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে মেডিকেল পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মদের নেশার সঠিক মাত্রা স্পষ্ট হয়।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃত চালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক কঠোর ধারায় সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানো, বিপজ্জনক ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং গুরুতর আঘাত দেওয়ার মতো অগ্রহণযোগ্য অপরাধ। শুধু তাই নয়, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে মোটর ভেহিকলস অ্যাক্টের কঠোর বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, গাড়ি থেকে বিয়ারের ক্যান উদ্ধারের ঘটনায় ‘গুজরাত প্রহিবিশন অ্যাক্ট’ বা মদ্যপান নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় নিকোল থানায় একটি পৃথক অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ অপরাধের জট খুলতে আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে এবং ফরেনসিক ল্যাবের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের অন্যপ্রান্তে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়ে উত্তরপ্রদেশের কুশিনগর জেলায় আরও এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার গভীর রাতে হাটা-পিপরাইচ সড়কে একটি দ্রুতগামী ট্রাক এবং একটি যাত্রীবাহী ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ছয়জন যাত্রীর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে এক কিশোর। হাটা থানার এসএইচও ধর্মেন্দ্র সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, রবিবার রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে, তখন ওই ভ্যানের যাত্রীরা একটি আনন্দমুখর ‘তিলক’ অনুষ্ঠান শেষে নিজেদের বাড়িতে ফিরছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে যাত্রীবাহী ভ্যানটির অর্ধাংশ দুমড়ে-মুচড়ে একটি লোহা-লক্কড়ের স্তূপে পরিণত হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং আহত কিশোরকে হাসপাতালে পাঠায়। বারবার ঘটে চলা এই ধরনের সড়ক দুর্ঘটনাগুলি দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা ও ট্রাফিক নিয়মের কড়া প্রয়োগ নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।