বিধানসভায় উত্তাপ! রাজ্যপালের ভাষণে শুরু বাজেট অধিবেশন, পাখির চোখ ২২ জুনের দিকে

রাজ্যে পালাবদলের পর এক নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল আরএন রবির প্রথাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো চলতি বছরের বহু প্রতীক্ষিত বাজেট অধিবেশন। নতুন সরকারের এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তর থেকে রাজনৈতিক মহল—সর্বত্রই এখন তুঙ্গে জল্পনা। রাজ্যের অর্থনৈতিক হালচাল এবং আগামী দিনের উন্নয়নমূলক রূপরেখা কেমন হতে চলেছে, তা জানতেই মুখিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, ২৫ জুন পর্যন্ত এই অধিবেশন চলবে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি হলো আগামী ২২ জুন। ওইদিন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় চলতি বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বাজেট শুধুমাত্র কিছু সংখ্যা বা বরাদ্দের তালিকা নয়, বরং নতুন সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং জনমোহিনী নীতি বাস্তবায়নের একটি ‘ব্লু-প্রিন্ট’ হিসেবে কাজ করবে।
অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই বিধানসভা চত্বরে ছিল রাজনৈতিক ব্যস্ততা। রাজ্যপালের ভাষণ শুনতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা। পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের উপস্থিতি এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরব উপস্থিতি কক্ষের ভেতরের আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছিল। এবারের অধিবেশনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যে তীব্র বাগযুদ্ধ হতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে প্রথম দিনের পরিবেশ থেকেই।
রাজ্যপালের ভাষণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আগামী দিনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সরকারের দাবি, গত কয়েক মাসে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার যে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা রাজ্যপালের ভাষণে স্পষ্ট। এই ধারাবাহিকতাকে বজায় রেখেই এবারের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং নতুন কোনো প্রকল্পের ঘোষণা থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহল এবং চাকরিপ্রার্থীরা তাকিয়ে আছেন এই বাজেটের দিকে। নতুন সরকার কোন কোন ক্ষেত্রে ভর্তুকি বা ছাড় দেয়, অথবা পরিকাঠামো উন্নয়নে কতটা অর্থ বরাদ্দ করে, তা দেখার জন্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। রাজ্যপালের ভাষণে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশাসনিক অগ্রাধিকারগুলো এবারের বাজেটে কতটা মূর্ত হয়ে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে ২২ জুনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো রাজ্য।