বায়ুসেনার শীর্ষ পদে বড় চমক! আইআইটি কানপুরের পর কোন ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিলেন শক্তি শর্মা?

ভারতীয় বায়ুসেনায় (IAF) এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক নজির সৃষ্টি হলো। সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে প্রথম অ-চিকিৎসক মহিলা অফিসার হিসেবে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এয়ার ভাইস মার্শাল পদে উন্নীত হয়েছেন শক্তি শর্মা। গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তিনি এয়ার হেডকোয়ার্টার্সে ‘Assistant Chief of the Air Staff (Education)’ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই পদোন্নতি দেশের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ১৮ জুন ভারতীয় বায়ুসেনার এডুকেশন ব্রাঞ্চে কমিশনপ্রাপ্ত হন শক্তি শর্মা। তিন দশকেরও বেশি দীর্ঘ ও বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি ট্রেনিং প্রতিষ্ঠান, ফিল্ড স্টেশন, কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং এয়ার হেডকোয়ার্টার্সে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। প্রতিরক্ষা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে আইআইটি কানপুর এবং পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘IAF Chairs of Excellence’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই বায়ুসেনার সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বহুলাংশে জোরদার হয়েছে।

এর আগেও তিনি সামরিক ক্ষেত্রে নারী শক্তির জয়যাত্রায় একাধিক নজির গড়েছেন। ট্রাই-সার্ভিসের প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে তিনি একটি প্রধান সৈনিক স্কুলের কমান্ডের দায়িত্ব সফলভাবে সামলানোর ইতিহাস গড়েছিলেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী সৈনিক স্কুল, কপূরথলার প্রিন্সিপাল হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তি শর্মার এই পদোন্নতি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলা অফিসারদের নেতৃত্বে এক অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক। সুদীর্ঘ সামরিক জীবনে একের পর এক জটিল দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালনের পর শীর্ষ নেতৃত্বের এই স্তরে তাঁর এই উত্থান আগামী দিনে দেশের তরুণ প্রজন্মের মহিলা অফিসারদের জন্য অণুপ্রেরণার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।