ফোনে নেটওয়ার্কের পাশে এই বিশেষ লেখাগুলি কি খেয়াল করেছেন? না জানলে বড় সুযোগ মিস করছেন!

আজকাল স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় স্ক্রিনের ওপরের কোণায় নেটওয়ার্ক বারের কাছে প্রায়শই ‘VoLTE’ বা ‘VoNR’ শব্দ দুটি ভেসে উঠতে দেখা যায়। বহু ব্যবহারকারীই এই শব্দগুলির আসল তাৎপর্য বা গুরুত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। তবে জেনে রাখা ভালো যে এই প্রযুক্তিগুলি আধুনিক মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার এমন এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন, যা প্রতিদিনের কথা বলার অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়। পুরনো দিনের টু-জি বা থ্রি-জি প্রযুক্তির সমস্ত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই আধুনিক ব্যবস্থা ব্যবহারকারীকে এক অবিশ্বাস্য সুবিধা প্রদান করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিগুলি শুধু ভয়েস কলের অডিও কোয়ালিটিকেই অত্যন্ত স্বচ্ছ ও স্ফটিকের মতো পরিষ্কার করে না, বরং কল চলাকালীন ইন্টারনেটের নিরবচ্ছিন্ন গতি বজায় রাখাও নিশ্চিত করে। এর ফলে ব্যবহারকারী একই সঙ্গে নির্বিঘ্নে হাই-ডেফিনিশন বা এইচডি ভয়েস কল এবং উচ্চ গতিতে ইন্টারনেট ব্রাউজিং উপভোগ করতে পারেন।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, VoLTE-এর পূর্ণরূপ হলো ‘Voice over Long Term Evolution’, যা মূলত ফোর-জি নেটওয়ার্কে কাজ করে। একসময় ফোর-জি আসার আগেও যখন টু-জি বা থ্রি-জি নেটওয়ার্কে কল করা হতো, তখন ফোনের ইন্টারনেট ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যেত কিংবা এর গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ত। কিন্তু VoLTE আসার পর সেই সমস্যার চিরতরে অবসান ঘটেছে। এর মাধ্যমে ফোর-জি নেটওয়ার্কে অত্যন্ত স্পষ্ট এইচডি ভয়েস কল করার পাশাপাশি হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে, VoNR-এর পূর্ণরূপ হলো ‘ভয়েস ওভার নিউ রেডিও’, যা বহু ক্ষেত্রে ‘Vo5G’ নামেও পরিচিত এবং এটি বিশেষভাবে ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ব্যবহারকারী যখন ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকেন, তখন এই প্রযুক্তি সরাসরি ফাইভ-জি কোর নেটওয়ার্কে ভয়েস কলগুলি প্রসেস করে। অতীতে ফাইভ-জি ফোনে কথা বলার সময় নেটওয়ার্ককে সাময়িকভাবে ফোর-জি তে নামিয়ে আনতে হতো, কিন্তু VoNR সেই সমস্ত জটিলতা দূর করে দিয়েছে। এই প্রযুক্তি ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের অতি দ্রুত গতি এবং অত্যন্ত কম ল্যাটেন্সিকে কাজে লাগিয়ে কল সংযোগকে আরও মসৃণ ও দ্রুত করে তোলে।

এই প্রযুক্তিগুলির মাধ্যমে কথা বলার সময় পারিপার্শ্বিক অপ্রয়োজনীয় কোলাহল অনেকটাই কমে যায়, ফলে অপর প্রান্তের ব্যক্তির কণ্ঠস্বর অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালোভাবে শোনা যায়। সাধারণ অ্যানালগ বা পুরনো কলের তুলনায় VoLTE এবং VoNR কলের ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রিং বাজে এবং কোনো রকম বিলম্ব বা ল্যাগ ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ স্থাপিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দীর্ঘক্ষণ কল চলাকালীনও ব্যবহারকারী স্বচ্ছন্দে কোনো বাধা ছাড়াই অনলাইনে ভিডিও দেখতে পারেন, ভারী ফাইল ডাউনলোড করতে পারেন কিংবা অনলাইন গেমিংয়ে মগ্ন থাকতে পারেন।

বর্তমানে বাজারে উপলব্ধ প্রায় সব নতুন ফোর-জি এবং ফাইভ-জি স্মার্টফোনেই এই চমৎকার ফিচারটি বিল্ট-ইন বা আগে থেকেই সেট করা থাকে। যদি কোনো কারণে আপনার ফোনে এই সুবিধাটি সক্রিয় না থাকে, তবে সহজেই তা ঠিক করা সম্ভব। এর জন্য প্রথমে স্মার্টফোনের ‘সেটিংস’ অপশনে গিয়ে ‘সিম কার্ড এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট সিম কার্ডটি বেছে নিয়ে ‘Use VoLTE’ বা ‘VoNR / 5G Calling’ অপশনের পাশের টগল বাটনটি অন করলেই এই দুর্দান্ত প্রযুক্তির সুফল মিলবে।