প্রেমানন্দ মহারাজের মোট কটি আশ্রম রয়েছে? সেবকদের সাদা ও হলুদ পোশাক পরার নেপথ্যে রয়েছে কোন রহস্য?

বিশ্ববিখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক প্রেমানন্দ মহারাজের দর্শন এবং তাঁর অমূল্য সৎসঙ্গে যোগ দিতে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা ভিড় জমান উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে। রাধাবল্লভ ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই সন্তের প্রধান আশ্রম এবং তাঁর অনুগামীদের ঘিরে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি মহারাজের আশ্রমের সংখ্যা এবং তাঁর সেবকদের বিশেষ পোশাকের পরিধান নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রধান আশ্রম ও নতুন নির্মাণকাজ

প্রেমানন্দ মহারাজের মূল আশ্রমটি “শ্রী হিত রাধা কেলি কুঞ্জ” নামে পরিচিত, যা বৃন্দাবনের পরিক্রমা মার্গ সংলগ্ন বরাহ ঘাটের কাছে অবস্থিত। অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী এটিই প্রধান কেন্দ্র। তবে এর পাশাপাশি নতুন কিছু নির্মাণকাজ নিয়েও জোর চর্চা চলছে। মান্ট এলাকার বেলভান মন্দিরের কাছে জাহাঙ্গীরপুর খাদার অঞ্চলে ‘যমুনা বিহার কুঞ্জ’ নামে প্রায় সোয়া নয় বিঘা জমি জুড়ে একটি নতুন আশ্রম কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। যেখানে সাধক ও শিষ্যদের কুটির, মহারাজের ধ্যানের স্থান এবং ডায়ালাইসিস ইউনিটের মতো চিকিৎসা পরিকাঠামো রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বৃন্দাবনের ১২ ঘাট এলাকাতেও একটি নতুন সৎসঙ্গ হল তৈরির কাজ নিয়ে জল্পনা শোনা যাচ্ছে।

সাদা ও হলুদ পোশাকের রহস্য কী?

আশ্রমে আগত ভক্তদের মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জাগে—সেবকরা কেন আলাদা রঙের পোশাক পরেন? কিছু সেবককে সাদা পোশাকে দেখা গেলেও অনেকের পরনেই থাকে হলুদ পোশাক। আশ্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, সাদা পোশাক সাধারণত নতুন যোগদানকারী সাধক বা সেবকদের জন্য নির্ধারিত হয়। এরপর আশ্রমে বিভিন্ন সেবা, সাধনা এবং দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করার পর তাঁদের হলুদ পোশাক প্রদান করা হয়।

তবে এই রঙের পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটের পাতায় কোনো লিখিত বা প্রকাশ্য নিয়ম নেই। তাই এটিকে আশ্রমের কোনো কড়া প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা না ভেবে, বরং সেবকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহ্য হিসেবেই দেখা উচিত। প্রতিদিনের মঙ্গলা আরতি, বাণী পাঠ এবং রাধা নাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে মুখরিত থাকে এই পবিত্র প্রাঙ্গণ, যেখানে আধ্যাত্মিক শান্তির টানে রোজ হাজার হাজার ভক্ত ছুটে আসেন।