প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি ছাড়ার ৭১ দিন পর এবার সাংসদ পদ থেকেও পদত্যাগ! ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ভূমিকম্প আনলেন কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় মোড়। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর মাত্র ৭১ দিনের মাথায় এবার হাউস অফ কমন্সের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন। তাঁর এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্টারমার জানিয়েছেন, ২০১৫ সাল থেকে যে হলবর্ন এবং সেন্ট প্যানক্রাস নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব তিনি করে আসছেন, সেখান থেকে এবার সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। এখন তাঁর মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে পূর্ণ সময় দেওয়া।

স্থানীয় সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টারমার জানান, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই এলাকার মানুষের সেবা করা তাঁর কাছে বিরাট সম্মানের বিষয় ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার সময় তিনি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত এমপি হিসেবে নিজের মেয়াদ পূর্ণ করার কথা বললেও, সেই অবস্থান থেকে সরে এসে এখনই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর এই হঠাত্ পদত্যাগের ফলে লন্ডনের ওই আসনে নতুন করে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের এই শক্তঘাঁটিতে গ্রিন পার্টির সম্ভাব্য শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ ও বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির কড়া সমালোচনার মুখে এই উপনির্বাচন ব্রিটিশ রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে। ঋষি সুনাক বা থেরেসা মে-র মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীরা পদ ছাড়ার পরেও দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য হিসেবে থেকে গেলেও, বরিস জনসন বা ডেভিড ক্যামেরনের পথ অনুসরণ করে স্টারমারের এমন দ্রুত সংসদ ছাড়ার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।