প্রথমে হকারকে ধাক্কা, তারপর পুলিশকে মোটা টাকা ঘুষের চেষ্টা! মদ্যপ চালকের সাথে যা করলেন দিল্লি পুলিশের অফিসার

ঘুষ নেওয়ার বদলে অপরাধীকে সঠিক পথে পরিচালনা ও মানবিকতার বার্তা! উত্তর-পশ্চিম দিল্লির অশোক বিহার এলাকায় ঘটে গেল এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক মদ্যপ গাড়িচালক অন্যায় ঢেকে রাখতে পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অশোক বিহার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইন্সপেক্টর সোমবীর লোচাব সেই প্রলোভন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে সততা ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

সূত্রের খবর, গভীর রাতে একটি জরুরি কলের ভিত্তিতে ডিউটি পালন করছিলেন ইন্সপেক্টর সোমবীর লোচাব। ঠিক সেই সময় মুরঘা মার্কেটের কাছে তিনি এক বিকট শব্দের শুনতে পান। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, একটি দ্রুতগামী সাদা রঙের গ্র্যান্ড ভিটারা গাড়ি সজোরে ধাক্কা মেরেছে রাস্তার পাশের এক হকারের ঠেলাগাড়িতে। দুর্ঘটনায় গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের লোকজনের ভিড় জমে যায়।

মারধর ও ঘুষের চেষ্টা

ঘটনার ভয়াবহতার এখানেই শেষ নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়ি থেকে নেমেই মদ্যপ অবস্থায় থাকা ওই চালক প্রথমে ওই হকারকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন। এরপর পুলিশ এসে পৌঁছালে আইনি ব্যবস্থা থেকে বাঁচতে তিনি ইন্সপেক্টর সোমবীরকে পকেট থেকে টাকা বের করে সরাসরি ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ইন্সপেক্টরের মানবিক পদক্ষেপ

ঘুষের প্রলোভনে পা না দিয়ে অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দেন ইন্সপেক্টর সোমবীর। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই চালককে নিরস্ত করেন এবং তাঁর অন্যায় আচরণ সম্পর্কে সচেষ্ট করেন। এরপর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটিয়ে তিনি চালকের পরিবারকে খবর দেন। পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করে ওই মদ্যপ চালককে নিরাপদে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসারের এমন সততা, তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা এবং মানবিক সংবেদনশীলতা দেখে উপস্থিত জনতা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ইন্সপেক্টর সোমবীরের এই মহৎ পদক্ষেপ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।