প্রতীক ‘ফ্রিজ’ হতেই কমিশনে গোপন চিঠি কালীঘাটের! কোন কোন নতুন বিকল্প বেছে নিলেন ঘাসফুল শিবির?

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত করা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বহু পরিচিত জোড়াফুল প্রতীক। আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে এই নির্দেশ আসার পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতীক ও নাম হাতছাড়া হওয়ার এই পরিস্থিতিতে বসে নেই কোনো পক্ষই। সূত্রের খবর, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের বিকল্প নাম ও পছন্দের প্রতীকের তালিকা জমা দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল শিবির।
কমিশনে জমা পড়ল নতুন বিকল্পের তালিকা
জানা গিয়েছে, কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই গতকাল রাতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠিয়ে তিনটি বিকল্প নাম ও প্রতীক জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ শিবিরের কৌশল এড়াতে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে ঠিক কোন কোন বিকল্প প্রতীকের আবেদন করা হয়েছে, তা আপাতত গোপনীয় রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা চলছে, নতুন প্রতীকের ক্ষেত্রেও কি শেষ পর্যন্ত কোনো ফুলের ছাঁদ বা অনুসঙ্গ রেখেই দিতে চলেছেন ঘাসফুল শিবিরের নেতৃত্ব?
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নব তৃণমূল’ শিবিরও প্রতীক ও নাম নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে। সূত্রের খবর, তারা নতুন নামের ক্ষেত্রে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল পার্টি’ বা ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল পার্টি’-র মতো নাম এবং প্রতীকের জন্য ব্ল্যাকবোর্ড, খাম কিংবা টর্চের মতো বিকল্পগুলোর কথা ভেবে থাকতে পারে।
কী বলছে ওয়াকিবহাল মহল?
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেনের মতে, মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংকটের মতো এই ঘটনার আইনি ও পদ্ধতিগত দিকগুলো খতিয়ে দেখতে কিছুটা সময় লাগবে। যেহেতু আগামী ছ’মাসের মধ্যে উপনির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই কমিশন খুব দ্রুততার সঙ্গেই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ উভয় পক্ষের জমা দেওয়া লোগো এবং নাম নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে, যেখানে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের প্রতিনিধিরাও ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। সবমিলিয়ে, জোড়াফুলের অনুপস্থিতিতে আসন্ন উপনির্বাচনে কোন পক্ষ কোন প্রতীক নিয়ে লড়বে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।