প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে বিরাট পুনর্বিন্যাস! ‘কর্তব্য ভবন’-এ সেনাপ্রধানের নতুন ঠিকানা, জয়সলমিরে রাজনাথের বড় বৈঠক

দেশের সামরিক পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক সমন্বয়ে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে দেশের রাজধানী। দিল্লিতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের কার্যালয় নতুন ভবনে স্থানান্তরের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক ও যুদ্ধসংক্রান্ত কাজকে নতুন ও আধুনিক কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সেনা ও নৌবাহিনী প্রধানের নতুন ঠিকানা: নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত নবনির্মিত অত্যাধুনিক ‘শৌর্য ভবন’-এ স্থানান্তরিত হবেন। অন্যদিকে, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন সেনা ভবনে তাঁর নতুন কার্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কেবল আধিকারিকদের বসার জায়গাই নয়, সেনাবাহিনীর ‘ওয়ার রুম’ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও)-এর কার্যালয়কেও সাউথ ব্লক থেকে চিরতরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নৌবাহিনীর নতুন সদর দফতর আগে ডিআরডিও (DRDO) ভবনের পাশে করার সিদ্ধান্ত থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন পুনর্উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে ব্যাপক পরিকাঠামো ও কারিগরি সহায়তানির্ভর নৌবাহিনীর ‘ওয়ার রুম’ শেষ পর্যন্ত কোথায় স্থানান্তরিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।
‘কর্তব্য ভবন’-এ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক: বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সাময়িকভাবে ‘কর্তব্য ভবন ২’-এ তাদের কাজকর্ম শুরু করেছে। নির্ধারিত স্থায়ী ভবন (কর্তব্য ভবন ৬ ও ৭)-এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে সেখানে স্থানান্তরিত হবে মন্ত্রক। বর্তমানে ‘চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ’ (সিডিএস)-এর কার্যালয়টি ‘কর্তব্য ভবন ২’-তেই রয়েছে। ফলে নতুন ভবন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত সেনাপ্রধানকে প্রশাসনিক বা সিদ্ধান্তমূলক জরুরি সাক্ষাতের জন্য দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থেকে নিয়মিত ‘কর্তব্য ভবন ২’-এ আসতে হবে।
জয়সলমেরে রাজনাথের মেগা বৈঠক ও ৩ লক্ষ কোটির লক্ষ্যমাত্রা: একদিকে রাজধানী দিল্লিতে যখন পরিকাঠামোর এই বিরাট পরিবর্তন চলছে, ঠিক তখনই মঙ্গলবার রাজস্থানের জয়সলমেরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিশেষ পরামর্শক কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন’ শীর্ষক এই বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রণকৌশল ও উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, যেকোনো ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে ভারতীয় সেনাকে প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী করা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্য অর্জনে এক বড় বার্তা দিয়ে রাজনাথ সিং ঘোষণা করেন, “২০২৯ সালের মধ্যে ৩ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা রফতানির ঐতিহাসিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”