পুজোর মুখে বড় ধাক্কা! উপনির্বাচনের জেরে বদলাল উচ্চ মাধ্যমিকের সম্পূর্ণ রুটিন

আসন্ন উপনির্বাচনের সরাসরি প্রভাব পড়ল রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচিতে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটের কাজে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, নিরাপত্তা বাহিনী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাপক ব্যস্ততার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করেই পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরীক্ষার দিনগুলিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে শুধুমাত্র পরীক্ষার নির্ধারিত দিনগুলিই পেছাল না, বরং তৃতীয় সেমেস্টারের ফাইনাল পরীক্ষার শেষ দিনটি সরাসরি গিয়ে ঠেকলো দুর্গাপুজোর ঠিক চতুর্থীর দিনে, যা নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

সংসদের প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত তিনটি পৃথক তারিখের পরীক্ষার সূচিতে এই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথমত, ৫ অক্টোবর সোমবারের সমস্ত নির্ধারিত পরীক্ষাগুলি পিছিয়ে আগামী ১২ অক্টোবর সোমবার নেওয়া হবে। ওই নির্দিষ্ট দিনে গণিত, বিজনেস ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্স, বেসিক ম্যাথমেটিক্স ফর সোশ্যাল সায়েন্সেস, এগ্রিকালচার, সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন, সংস্কৃত, পার্সি এবং আরবি বিষয়ের পরীক্ষাগুলি সম্পন্ন হবে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি হয়েছে ৬ অক্টোবর মঙ্গলবারকে কেন্দ্র করে। ওই দিন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ভোটগ্রহণ থাকায় সাইবার সিকিউরিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সমাজবিদ্যা এবং ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার—এই বিষয়গুলির পরীক্ষা পিছিয়ে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার ধার্য করা হয়েছে। পরিশেষে, ৭ অক্টোবর বুধবারের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলি ঠিক এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে, যে দিন বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং কস্টিং অ্যান্ড ট্যাক্সেশনের পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব মিটলে আগামী ৯ অক্টোবর শুক্রবার ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বন্দোবস্তের কথা মাথায় রেখেই সংসদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সংসদ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র ৫, ৬ এবং ৭ অক্টোবরের পরীক্ষাগুলির দিনই বদল করা হয়েছে। এর বাইরে গত ২৫ জুন প্রকাশিত মূল রুটিনের অন্যান্য নিয়ম বা পরীক্ষার সূচিতে কোনো রকম পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীদের পুরো রুটিন নতুন করে মুখস্থ করতে হবে না, কেবল সংশ্লিষ্ট তিন দিনের পরিবর্তিত তারিখগুলো মাথায় রাখতে হবে। তবুও পুজো চলাকালীন বা পুজোর ঠিক প্রাক্কালে পরীক্ষা শেষ হওয়ায় উৎসবের আনন্দ ম্লান হওয়ার আশঙ্কা করছেন ছাত্রছাত্রীরা। রাজ্যের সমস্ত উচ্চ মাধ্যমিক তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষার্থীদের জন্য এই নতুন ও পরিবর্তিত সূচি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।