পুজোর আগে চরম বিপাকে শাসকদল! ৪টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি ধাক্কা খেল তৃণমূল

চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার মামলায় সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি এম সুন্দরেশের বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের করা মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আদালতের এই রায়ের পর ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে আর কোনো লেনদেন করা যাবে না, যা শাসকশিবিরের কাছে এক বিরাট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঠিক কী নিয়ে এই আইনি লড়াই?

একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তৃণমূল কংগ্রেসের মোট চারটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। পুলিশ সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই চারটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা সিল করে দিয়েছিল। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কোনো বেআইনি লেনদেন হয়নি। অথচ সামনেই উপনির্বাচন এবং দলের প্রতি মাসে প্রায় ১২ কোটি টাকা খরচ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওই অ্যাকাউন্টগুলি সচল করার অনুমতি চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদনে হস্তক্ষেপ না করায় তারা সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও রায়

এদিনের শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, নির্বাচন কমিশন আগেই তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ নেই আদালত দেখছে না। এর পরেই বিচারপতি এম সুন্দরেশের বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।

এর আগে ইডি (Enforcement Directorate)-র পক্ষ থেকে তৃণমূলের কিছু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলে আদালত শর্তসাপেক্ষে বিশেষ অফিসার নিয়োগ করে টাকা তোলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পুলিশি বা সাইবার সংক্রান্ত এই নতুন চার অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সেই বিশেষ অফিসারের মাধ্যমে টাকা তোলার সুবিধা মিলল না। ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর আগামী দিনে দলীয় আর্থিক পরিচালনা কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে।