দরজার এপাশে ফণা তুলেছে সাড়ে চার ফুটের বিষধর গোখরো, আর ওপাশে অবুঝ পড়ুয়ারা! স্কুলে ঘটল রক্ত হিম করা কাণ্ড

ছবিটা দেখলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। তখন স্কুলে পুরোদমে ক্লাস চলছে। হঠাৎই এক পড়ুয়ার চোখ গেল ক্লাসরুমের দরজার দিকে। আর তাতেই রক্ত জল হয়ে যাওয়ার জোগাড়! ক্লাসের দরজার এক প্রান্তে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল বিষধর গোখরো, আর ঠিক অন্য প্রান্তেই বসে রয়েছে এক দল অবুঝ খুদে পড়ুয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধূপগুড়ি ব্লকের বোরাগাড়ি-১ নম্বর বিএফপি বিদ্যালয়ে ঘটা এই হাড়হিম করা ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

ঠিক কী ঘটেছিল ক্লাসরুমে?

দুপুরবেলা স্কুল চলাকালীন হঠাতই কোথা থেকে একটি গোখরো সাপ সোজা ঢুকে পড়ে একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে। সাপটিকে দেখতে পেয়েই ভয়ে চিৎকার করে ওঠে পড়ুয়ারা। শিশুদের চিৎকার শুনে শিক্ষক-শিক্ষিকারা দৌড়ে এসে পরিস্থিতি আঁচ করতে পারেন। তড়িঘড়ি কোনো ঝুঁকি না নিয়ে অন্য দরজা দিয়ে ওই ক্লাসের সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে নিরাপদে পাশের অন্য একটি শ্রেণিকক্ষ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়া সাপটি একটি কোণে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে থাকে। শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেই শ্রেণিকক্ষটি সঙ্গে সঙ্গে তালাবন্ধ করে দেন শিক্ষকরা এবং বাইরে থেকে পাহারা দিতে শুরু করেন। এরপর খবর দেওয়া হয় ধূপগুড়ির পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ‘ডুয়ার্স নেচার অ্যান্ড স্নেক লাভার্স অর্গানাইজেশন’-এর সদস্যদের।

উদ্ধার হলো সাড়ে চার ফুটের গোখরো

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সাপটি কখনও তৃতীয় আবার কখনও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাসরুমে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করে, যার জেরে স্কুলের পঠনপাঠন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পরিবেশপ্রেমী ভজন সাহা ও অন্যান্য সদস্যরা। দীর্ঘ চেষ্টার পর তাঁরা সাড়ে চার ফুট লম্বা ওই বিষধর গোখরোটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় একটি নিরাপদ জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল চত্বরে এই ধরনের বিষধর সাপ ঢুকে পড়ার ঘটনায় পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মনে গভীর আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।