পুজোর আগেই বাম্পার উপহার! কৃষক বন্ধু প্রকল্পে সময়সীমা বৃদ্ধি, আইসিডিএস ও আশা কর্মীদের নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের

দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক স্বস্তির খবর নিয়ে এল প্রশাসন। ‘কৃষক বন্ধু নতুন’ প্রকল্পে আবেদনের সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি, সোমবার পানিহাটির ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ অনুষ্ঠান থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোর পরিকাঠামো এবং কর্মী ও শিশুদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করা হয়েছে।
কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বর্তমানে মোট ১ কোটি ১ লক্ষ ৯ হাজার ৫৭১ জন চাষির নাম নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পের আওতাভুক্ত ১৮ লক্ষ ৫৬ হাজার কৃষককে ইতিমধ্যেই বিশেষ এসএমএস পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন নিয়মের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনে কৃষিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখন থেকে একই পরিবারের একাধিক সদস্য এই সুবিধা পাবেন না; বরং একটি কৃষক পরিবার থেকে কেবল একজনই ‘কৃষক বন্ধু নতুন’ প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
পাশাপাশি, ৩৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ২১৩ জন কৃষককে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’র জন্য উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বাকিদের যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ বর্তমানে চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, যাঁদের ৪০ শতক পর্যন্ত জমি রয়েছে, তাঁরা বার্ষিক ৪ হাজার টাকা এবং যাঁদের জমির পরিমাণ ৪০ শতকের বেশি, তাঁরা ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পান। তবে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যাঁরা ‘কৃষক বন্ধু নতুন’ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তাঁরা ‘পিএম কিষান সম্মান নিধি’র আওতাভুক্ত হবেন না। একইসঙ্গে চা-বাগানের শ্রমিকদের সুরক্ষাও সরকারের বিশেষ নজরে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবারের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মানোন্নয়নের কথা ঘোষণা করে জানানো হয়, আশা কর্মীদের বেতন ৫০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যের বরাদ্দ প্রতি দিন প্রতি শিশু পিছু ৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। গর্ভবতী মায়েদের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিটি আইসিডিএস কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং শৌচাগারের পরিকাঠামো সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পুজোর আগে সরকারের এই দ্বিমুখী পদক্ষেপে রাজ্যের চাষি ও প্রান্তিক মানুষেরা যে বড় স্বস্তি পেলেন, তা বলাই বাহুল্য।