পুজোয় লালবাজারের কড়া বার্তা! হেলমেটহীন বাইক আর ট্রিপল রাইডিংয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ কমিশনারের

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা এবং মণ্ডপে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের জেরে গত কয়েকদিন ধরেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এবং বাইপাসে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে লালবাজার। যানজট নিয়ন্ত্রণে কঠোর একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি বাইক আরোহীদের ওপর নজরদারি ও কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহর ও শহরতলিতে যানবাহনের এই অতিরিক্ত চাপ প্রসঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, পুজোর দিনগুলিতে বহু মানুষ বাইরে থেকে আসেন এবং রাস্তা পারাপার করেন। রাস্তাঘাটে পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা না থাকলে এবং গাড়ি ও পথচারী একসঙ্গে চলতে শুরু করলে সমস্যা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে পুজোর শুরুতেই মানুষের এই অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছুটা হয়রানি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শহরের সাধারণ রাস্তার পাশাপাশি প্রবল চাপ বাড়ছে মা ফ্লাইওভারের উপরও। এই বিষয়ে পুলিশ কমিশনার ব্যাখ্যা করে জানান, একদিকে নিউ টাউনের ট্রাফিক এবং অন্যদিকে কলকাতার ট্রাফিক—উভয়েরই অতিরিক্ত চাপ এসে পড়ে মা ফ্লাইওভারের উপর। ফ্লাইওভারে যানজট এড়াতে এবং কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভারের উপর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কোনও গাড়ি খারাপ হয়ে গেলে, সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে সরিয়ে রাস্তার মাঝখানে নিয়ে এসে ছোট ক্রেনের সাহায্যে দ্রুত সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ট্রাফিকের সামগ্রিক সমস্যাগুলি মেটানোর জন্য কলকাতা পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে এবং এই বিষয়ে সরকারি স্তরেও আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “পুজোর সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সচল রাখা আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবারের মত এবার আমরা সেটাই করব।”
লালবাজারের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শহরের বড় বড় মণ্ডপগুলির পাশাপাশি কেনাকাটার শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলিতে মানুষের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট ও তার সংলগ্ন এলাকা, মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট ও ধর্মতলা চত্বর এবং উত্তর কলকাতার হাতিবাগান ও শ্যামবাজারে প্রচুর ভিড় জমেছে। এছাড়াও যাদবপুর, কসবা, পার্ক সার্কাস এবং উত্তর কলকাতার বিভিন্ন শপিং মলের আশপাশেও মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা গিয়েছে। এর ওপর আবার বিকেলের পর থেকে অফিস ফেরত যাত্রীদের ভিড় যুক্ত হওয়ায় শহরের বিভিন্ন অংশে যান চলাচল কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের যাতায়াত মসৃণ রাখতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে ময়দানে নেমেছেন ট্রাফিক আধিকারিক ও কর্মীরা।
যান চলাচল নির্বিঘ্ন করার পাশাপাশি ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাইপাস-সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে হেলমেটবিহীন বাইক চালক এবং বাইকে ট্রিপল রাইডিং বা তিন জন চড়ে যাতায়াতের মতো বিপজ্জনক বিষয়ের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। উৎসবের এই আনন্দঘন দিনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশ ও লালবাজারের যৌথ এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।