পুজোয় বাড়ি ফেরা কি তবে শিকেয়? পকেটে টান ফেলে আকাশছোঁয়া বিমানের ভাড়া!

সামনেই গণেশ চতুর্থী এবং দুর্গাপূজা সহ একের পর এক উৎসবের মরসুম। এই সময়টায় পরিবারের সঙ্গে আনন্দ কাটাতে অনেকেই লম্বা ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেন। যাত্রীদের এই যাতায়াতের সুবিধার জন্য ভারতীয় রেল ও বিভিন্ন সরকারি বাস সংস্থা যেমন বিশেষ ট্রেন ও বাস চালায়, তেমনই আকাশপথে যাতায়াতের চাহিদাও বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু উৎসবের ঠিক প্রাক্কালেই বিমান যাত্রীদের জন্য একটি বড় ও দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। বিমানের জ্বালানি বা অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিমান সংস্থাগুলি এখন টিকিটের দাম বাড়াতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছে। সম্প্রতি বিমান জ্বালানি বা এটিএফ-এর দাম ৫.৪৬ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি লিটারে ৬.২৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে যে জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা ছিল, তা সরাসরি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১.২৮ টাকা। এর আগেও গত আগস্ট মাসে এটিএফ-এর দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। অর্থাৎ লাগাতার দ্বিতীয় মাসের মতো জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলির ওপর আর্থিক চাপ চরম আকার ধারণ করেছে। সাধারণত বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন খরচের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই খরচ হয় এই জ্বালানি কেন aবাবদ। জ্বালানির দাম এমনভাবে হু হু করে বাড়ায় এয়ারলাইন্সগুলির অপারেশনাল কস্ট বা মোট খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ যাত্রীদের বিমান ভাড়ার ওপর। খুব শীঘ্রই সমস্ত প্রধান বিমান সংস্থাগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিটের বর্ধিত দাম ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ে দূরপাল্লার যাতায়াতের সুবিধা এবং উৎসবের মরসুমে ঘরমুখী মানুষের চাপে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের টিকিটের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। কিন্তু জ্বালানির লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির ফলে এ বার সেই আকাশছোঁয়া ভাড়ার কোপ সরাসরি মধ্যবিত্তের পকেটে পড়তে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের নতুন করে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়েই জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম চড়ে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব ভারতের সাধারণ মানুষের নিত্যজীবন ও ভ্রমণ খরচের ওপর পড়তে শুরু করেছে, যা উৎসবের আনন্দ কিছুটা হলেও ম্লান করে দিতে পারে।