পাহাড়ে হানিমুন পরিণত হল বিভীষিকায়! বারবিকিউ করতে গিয়ে আগুনে ঝলসে আশঙ্কাজনক নবববধূ

পাহাড়ে হানিমুন পরিণত হলো বিভীষিকায়: সিটংয়ের হোমস্টেতে বারবিকিউ করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে গুরুতর জখম নববধূ

পাহাড়ে হানিমুনের আনন্দ মুহূর্তে রূপ নিল এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। নতুন সংসার পাতার মাত্র দু’মাস পর পাহাড়ের কোলে ছুটি কাটাতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন উত্তর ২৪ পরগনার চোপড়ার এক নবদম্পতি। সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে বারবিকিউ করার সময় হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ায় গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন নববধূ নিকিতা। বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে লড়ছেন জীবনের সঙ্গে।

কীভাবে ঘটেছিল এই বিপত্তি?

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে প্রেম করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সৌভিক ও নিকিতা। বিয়ের পর থেকেই পাহাড়ে হানিমুনের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। সেই মতো সম্প্রতি তাঁরা পাড়ি দিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সিটংয়ে। সেখানে একটি পাহাড়ি হোমস্টেতে ওঠেছিলেন তাঁরা।

অভিযোগ, ঘটনার রাতে হোমস্টের চত্বরে বারবিকিউয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় আচমকাই আগুন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখার কবলে পড়ে যান নিকিতা। পরিবারের দাবি, ওই হোমস্টেতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বা অগ্নিনির্বাপক কোনো ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

হাসপাতালের বিছানায় লড়ছেন তরুণী, উঠছে গাফিলতির অভিযোগ

দুর্ঘটনার পর দ্রুত ওই তরুণীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তাঁর শরীরের অনেকটা অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর থেকেই হোমস্টে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও সহযোগিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আহত গৃহবধূর পরিবার। পাহাড়ের কোলে এমন জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে এই ঘটনা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।