পাহাড়ের খাঁজে হোটেল ব্যবসার আড়ালে বিশাল জমি দখল! পাটনিটপে ED-র বিরাট অভিযান, বাজয়াপ্ত কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি

জম্মু-কাশ্মীরের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পাটনিটপ। কিন্তু সেই পাহাড়ি স্বর্গরাজ্যেই হোটেল ব্যবসা ও বেআইনি জমি দখলের কালো ছায়া এবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। ইডি (Enforcement Directorate)-র তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর অধীনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সম্প্রতি পাটনিটপের ৪টি বড় হোটেলের প্রায় ১০.৬৬ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত (Attach) করেছে।

🏨 ইডির তালিকায় কোন কোন নামী হোটেল?

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই মেগা অ্যাকশনের কোপে পড়েছে পাটনিটপের চার নামী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান—

  • হোটেল হলিডে ইন (Hotel Holiday Inn)

  • হোটেল ব্রডওয়ে (Hotel Broadway)

  • হোটেল হলিউড (Hotel Hollywood)

  • হোটেল মাউন্টভিউ (Hotel Mountview)

তদন্তে জানা গেছে, এই হোটেলগুলির জমি ও বহুতল বেআইনিভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল, যা সরাসরি অপরাধলব্ধ আয়ের (Proceeds of Crime) আওতায় পড়ে।

🌲 জঙ্গল ও কৃষিজমি দখলের মারাত্মক অভিযোগ

মূল ঘটনার সূত্রপাত সিবিআই (CBI)-এর জম্মু এসিবি শাখায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআর থেকে। সিবিআই ও ইডির যৌথ তদন্তে বেরিয়ে আসে বিস্ফোরক তথ্য। পাটনিটপ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PDA)-র একশ্রেণির দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক এবং স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী হোটেল মালিকের অশুভ আঁতাতের ফলেই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন ছাড়াই ঘন জঙ্গল, কৃষিজমি এবং আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছিল এই বিশাল সব হোটেল ও কটেজ। অনুমোদিত নকশা বা প্ল্যান তোয়াক্কা না করেই চলেছে বহুতল নির্মাণের কাজ। এমনকী হোটেল হলিডে ইন অনুমতি থাকা সত্ত্বেও নকশার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ৭,৫৫২.৭৪ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বেআইনি নির্মাণ কাজ চালিয়েছিল। অন্যদিকে, হোটেল ব্রডওয়ে, হলিউড এবং মাউন্টভিউ বাণিজ্যিক হোটেল চালানোর প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই রমরমিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল।

💥 মোট ৪১.৩৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

ইডির রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু নিয়মভঙ্গই নয়, এই বেআইনি বাণিজ্যিক কার্যকলাপ থেকে অর্জিত আয় এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম কানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হওয়া এই হোটেলগুলির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপের পর এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৪১.৩৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় যুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর ইডির নজরদারি এখনও অব্যাহত।