পাচ বছর পর বরফ গলবে? ভারত-চীন সীমান্ত সমস্যা মেটাতে সোজা বেজিং উড়ে যাচ্ছেন অজিত ডোভাল

ভারত ও চিনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের অবসান ঘটাতে এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক পদক্ষেপে সিলমোহর পড়তে চলেছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত সমস্যা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলাতে সোমবারই বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। আগামী মঙ্গলবার চিনের বিশেষ প্রতিনিধি তথা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ২৫তম দফার বৈঠকে মুখোমুখি বসবেন তিনি।
মূলত ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-চিন সীমান্ত এলাকার জটিলতা কাটাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে ২০০৩ সাল থেকেই এই বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা চালু রয়েছে। যদিও অতীতে এই মেকানিজমের মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যার পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি, তবে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে হতে চলা বহুপ্রতীক্ষিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ঠিক প্রাক্কালে ডোভালের এই বেজিং সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। ওয়াকিবহাল মহলের জোরালো জল্পনা রয়েছে যে, এই সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসতে পারেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি যদি শেষ পর্যন্ত দিল্লি আসেন, তবে সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও প্রবল।
এর আগে গত বছর অগস্টে তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ বৈঠকের সময় দুই শীর্ষ নেতার দেখা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচল প্রদেশ সহ সীমান্তজুড়ে চিনা সেনার আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে দেশের অন্দরেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সম্প্রতি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা সবচেয়ে বড় শর্ত। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার এই বেজিং সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মোড় ঘোরাতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।