পরমাণু যুদ্ধের ভয় দূর করে রাজধানীতে মেগা বৈঠক! ভারতের মাটিতে পা রেখেই কি বরফ গলাবেন চিনের প্রেসিডেন্ট?

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চে বিকেলে এক অত্যন্ত হাইভোল্টেজ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। ২০২০ সালের মারাত্মক গালওয়ান উপত্যকা সংঘাতের পর এই প্রথম চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতের মাটিতে পা রাখলেন। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতের মাটিতে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

শনিবার দিল্লির পালম বিমানবন্দরে পৌঁছলে চিনা প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। বিমানবন্দরে তাঁকে মণিপুরী ও অসমীয়া ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য স্বাগত জানানো হয়। ২০২০ সালের জুনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) সংলগ্ন গালওয়ান উপত্যকায় দু’দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন এবং চিনের বেশ কয়েকজন সেনাও নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছিল।

পরবর্তীকালে স্থানীয় সেনাপতি স্তর থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) স্তরে দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার পর অবশেষে বরফ গলতে শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে আজ নয়াদিল্লির মাটিতে এই ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্ভব হচ্ছে। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সবার চোখ এখন মোদী-জিনপিং আলোচনার ফলাফলের দিকে। সীমান্ত বিতর্ক মেটানো, বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষা এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে এই বৈঠক মাইলফলক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

চিনের স্পষ্ট বক্তব্য, এশিয়ার এই দুই দেশের উচিত তাদের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা এবং নিজেদের মধ্যে থাকা সমস্ত দ্বিপাক্ষিক মতভেদ ও বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান ঘটানো। মোদী-শি জিনপিং বৈঠকের আগে ভারতের জন্য বেজিংয়ের কূটনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং (Xu Feihong)। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে চিন।

উল্লেখ্য, কাজান ও তিয়ানজিনের পর এটি টানা তৃতীয় বছর যেখানে মোদী ও শি জিনপিং একে অপরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হচ্ছেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, চিনের প্রেসিডেন্ট বিকেল ১টা নাগাদ নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং বিকেল ৫:৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর ব্রিকস জোটের সভাপতিত্ব করছে ভারত। সেই সূত্রেই ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হচ্ছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (18th BRICS Summit)।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের এটি চতুর্থ ভারত সফর। প্রথমবার তিনি ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে এসেছিলেন। এরপর ২০১৬ সালে গোয়ায় আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তার দীর্ঘ সাত বছর পর, সীমান্ত উত্তেজনার বরফ গলিয়ে দিল্লিতে মোদী-শি বৈঠক বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।