নীল রঙ পরলেই কি মেকি দরদ ঢাকা পড়ে? মায়াবতীর তোপে কাঁপছে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি!

বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) জাতীয় সভাপতি তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে মুখ খুলেছেন। সমাজবাদী পার্টি (এসপি), কংগ্রেস এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকে সরাসরি নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, শুধুমাত্র গায়ে নীল রঙের গামছা, স্কার্ফ বা পোশাক জড়ালেই কিংবা মঞ্চে নীল রঙের ব্যবহার করলেই অন্য দলগুলির নেতা-কর্মীরা বহুজন সমাজ বা বাবা সাহেব আম্বেদকরের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠতে পারেন না। মায়াবতীর সাফ কথা, পোশাক বা বাহ্যিক রঙ বদলালেও বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সেই সমস্ত দলের জাতিবাদী, সংকীর্ণমনা, সামন্ততান্ত্রিক এবং পুঁজিবাদী মানসিকতার একচুলও পরিবর্তন ঘটেনি।
বহুজন সমাজের স্বার্থ ও কল্যাণের প্রকৃত উদোক্তা যে একমাত্র বিএসপি, সে কথা পুনর্ব্যক্ত করে মায়াবতী জানিয়েছেন যে, প্রান্তিক মানুষের সেবা করার আগে বিরোধী দলগুলিকে নিজেদের মন ও হৃদয়কে পুরোপুরি পরিশুদ্ধ করতে হবে। বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টির ‘পিডিএ’ (PDA) কৌশল ও রাজনীতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দলিত, অনগ্রসর শ্রেণি, আদিবাসী এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে এসপি মুখে বড় বড় কথা বললেও তাদের কার্যক্ষেত্রে তার বিন্দুমাত্র মিল থাকে না। অর্থাৎ, দলগুলির কথা ও কাজের মধ্যে পাহাড়প্রমাণ অসঙ্গতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে মায়াবতী তাদেরকে গিরগিটির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বহুজন সমাজের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে এই দলগুলো সুবিধামতো নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও মুখোশ বদলে ফেলে। এসপি-র পিডিএ নীতি সম্পূর্ণ কপট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে, একমাত্র বিএসপি-ই প্রকৃত অর্থে আম্বেদকরপন্থী আদর্শকে বুকে ধারণ করে বহুজন সমাজের মুক্তির জন্য নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া দল থেকে অতীতে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের সুবিধাবাদী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের চরিত্রহীন ও ঘন ঘন দলবদলকারী ব্যক্তিরা কখনোই সমাজের বা কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত মঙ্গল করতে পারে না।
কংগ্রেস দলকেও নিশানা করতে ছাড়েননি বিএসপি সুপ্রিমো। কংগ্রেসকে একটি ‘ডুবন্ত জাহাজ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেন কোনো সুস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এমন একটি অস্তিত্বহীন দলে যোগ দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করবে। ড. বি. আর. আম্বেদকরের ঐতিহাসিক বাণীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাবা সাহেব তাঁর জীবদ্দশায় বহুজন সমাজের মানুষদের সবসময় কংগ্রেসের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরিশেষে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মায়াবতীর এই ধারাল ও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বার্তা রাজ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা।