নির্বাচনের মাঝেই বড় স্বস্তি! নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট!

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন উত্তেজনার পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই স্বস্তির খবর পেলেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বহুচর্চিত এই মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১০ হাজার টাকার দুটি ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মিলন প্রধানকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি স্থানীয় থানায় জমা রাখতে হবে। আপাতত আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর এই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বলবৎ থাকবে এবং আগামী ২১ অক্টোবর তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে হলদিয়া আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে মোট ছ’টি ফৌজদারি মামলা রুজু হয়েছিল। যার মধ্যে দুটি মামলা কাঁথি আদালতে এবং বাকি চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে হলদিয়া আদালতে। এই মামলাগুলির মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তথা খুনের মতো ধারাও যুক্ত ছিল। সেই পুরনো মামলাগুলির ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করে এবং নিম্ন আদালত তাঁকে আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মিলন প্রধানের আইনজীবীরা।

এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পেশ করেন। আদালত জানায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঠিক পরেই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অথচ ২০০৭ সালের পর থেকে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও এই মামলাগুলিতে তাঁকে এর আগে কখনো গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না, তার সপক্ষে কোনো সন্তোষজনক তথ্য বা প্রমাণ রাজ্য সরকার আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। এই যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই আদালত তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। তবে জামিন পেলেও তাঁর ওপর বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, জামিনে থাকাকালীন প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে ১০টা এবং রাতে সাড়ে ন’টা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে তদন্তকারী অফিসার (IO) ফোন করে কংগ্রেস প্রার্থীর সমস্ত খবর এবং গতিবিধি তদারকি করবেন। এই ঐতিহাসিক রায়ের ফলে উপনির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে কংগ্রেস প্রার্থী কিছুটা স্বস্তি পেলেও রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।