নিজের বাড়ি কেনার স্বপ্ন কি অধরা থেকে যাবে? আপনার উপার্জনে ঠিক কত দামের ফ্ল্যাট বা বাড়ি কিনতে পারবেন আপনি? জানুন নিখুঁত হিসাব

মধ্যবিত্তের চিরকালের সবচেয়ে বড় স্বপ্নগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নিজের একটা ছাদ বা পাকা বাড়ি। কিন্তু হু হু করে যেভাবে রিয়েল এস্টেটের দাম বাড়ছে, তাতে অনেকেই মনে করেন নিজের একটা বাড়ি কেনা হয়তো আর সম্ভব নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা এবং সুনির্দিষ্ট আর্থিক হিসাব মেনে চললে সাধারণ আয়ের মানুষের পক্ষেও স্বপ্নের বাড়ি কেনা কঠিন কিছু নয়।

পার্সোনাল ফাইন্যান্সের জগতে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও জনপ্রিয় নিয়ম রয়েছে, যা ‘৫-২০-৩০-৪০’ (5-20-30-40) নিয়ম নামে পরিচিত। কোন আয়ে কেমন বাড়ি বা কত টাকার লোন নেওয়া উচিত, তা এই হিসাবের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

জেনে নিন এই জাদুকরী ফর্মুলার হিসাব:

  • ৫ (বার্ষিক উপার্জনের ৫ গুণ): এই নিয়ম অনুযায়ী, কেউ বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার কথা ভাবলে তার দাম যেন ক্রেতার বার্ষিক উপার্জনের ৫ গুণের বেশি না হয়। যেমন—কারও বার্ষিক উপার্জন যদি ৮ লক্ষ টাকা হয়, তবে তাঁর পক্ষে ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের বাড়ি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

  • ২০ (ঋণের মেয়াদ): বাড়ির জন্য হোম লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদ যেন কখনোই ২০ বছরের বেশি না হয়। যদিও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় মিলতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ এড়ানোই শ্রেয়।

  • ৩০ (ইএমআই বা কিস্তি): বাড়ির লোনের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই (EMI) কোনোভাবেই যেন আপনার মাসিক আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি না হয়। যেমন—মাসিক আয় ৬৬ হাজার টাকা হলে, ইএমআই কুড়ি হাজারের বেশি হওয়া উচিত নয়।

  • ৪০ (ডাউন পেমেন্ট): বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ অন্তত ৪০ শতাংশ হওয়া বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ, ৪০ লক্ষ টাকার বাড়ি কিনলে ২৪ লক্ষ টাকা লোন নিতে পারেন, বাকি ১৬ লক্ষ টাকা ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে।

আয় অনুযায়ী এক নজরে হিসাব (২০ বছরের লোন):

মাসিক বেতনবাড়ির আনুমানিক দামডাউন পেমেন্ট (৪০%)লোনের পরিমাণ (৬০%)৭.৭৫% সুদে ইএমআই৯.৪% সুদে ইএমআই
২০,০০০ টাকা১২ লক্ষ টাকা৪,৮০,০০০ টাকা৭,২০,০০০ টাকা৫,৯১১ টাকা৬,০০০ টাকা
৩০,০০০ টাকা১৮ লক্ষ টাকা৭,২০,০০০ টাকা১০,৮০,০০০ টাকা৮,৮৬৬ টাকা৯,০০০ টাকা
৫০,০০০ টাকা৩০ লক্ষ টাকা১২,০০,০০০ টাকা১৮,০০,০০০ টাকা১২,৮৯৫ টাকা১৫,০০০ টাকা

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এখানে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষা ও ধারণার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। আর্থিক বা রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।)