নিজেদের দেশে চরম বিদ্যুতের ঘাটতি! তা সত্ত্বেও নেপালকে নিয়ে মোদী সরকারের কোন ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে চমকে গেল বিশ্ব?

নেপালকে সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির অনুমোদন দিল ভারত! কাঠমান্ডুর বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে বড় পদক্ষেপ নয়াদিল্লির
সম্প্রতি আকস্মিক বন্যার জেরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা। যার ফলে দেশটির অন্দরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিদ্যুতের ঘাটতি। এই সংকট কাটাতে সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ভারতের কাছে আগাম আবেদন জানিয়েছিল নেপাল সরকার। আর সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই নেপালকে সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ রফতানির অনুমোদন দিল ভারত। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
নতুন অনুমোদন অনুসারে, মুজফ্ফরপুর-ঢালকেবর ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি, তানকপুর-মহেন্দ্রনগর ১৩২ কেভি লাইনের মাধ্যমে আরও ৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই দুটি প্রধান সংযোগ মিলিয়ে মোট ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেপালে পাঠাতে পারবে ভারত।
নিজস্ব চাহিদার চাপ ও ভারতীয় বিদ্যুৎ বাজারের ভূমিকা
অবশ্য এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ভারতের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপরও যথেষ্ট চাপ রয়েছে। অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া, সেচ কাজের জন্য বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা এবং শুষ্ক বর্ষার কারণে দেশে বিদ্যুতের ভোগ বেশ ভালোই বেড়েছে। এর উপরে আবার এল নিনোর প্রভাবে বায়ু ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের সর্বোচ্চ বিদ্যুতের চাহিদা ২৬০ গিগাওয়াটের উপরে অবস্থান করছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সেই চাহিদা পৌঁছে গিয়েছিল রেকর্ড ২৬৯ গিগাওয়াটে। একই দিনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের বাইরের সময়ে চাহিদা ছিল ২৩৬ গিগাওয়াট এবং ঘাটতি ছিল ৬.১ গিগাওয়াট। এমন পরিস্থিতিতেও নেপালের বাড়তি বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর বিষয়টি বিদ্যুৎ বাণিজ্যের প্রচলিত কাঠামোর মাধ্যমেই প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। ভারতীয় বিদ্যুৎ এক্সচেঞ্জের ডে-অ্যাহেড এবং রিয়েল-টাইম মার্কেট সেগমেন্টের মাধ্যমেই এই বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।