নতুন এসইউভি চুরি যাওয়ার ভয়ে ঘুম উড়ল প্রবাসীর! গাড়ি বাঁচাতে যা করলেন মালিক, দেখে চোখ কপালে উঠবে!

নতুন গাড়ি কেনার আনন্দ যেমন মানুষকে ভাসিয়ে দেয়, তেমনই অনেক সময় তা রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার মতো চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি এমনই এক অদ্ভুত ও তাক লাগানো ঘটনার সাক্ষী থাকল বিহারের গোপালগঞ্জ জেলা। ইজরায়েল প্রবাসী এক ব্যক্তি সদ্য সাধের গাড়ি কিনে নিরাপত্তা নিয়ে এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে, শেষপর্যন্ত বিশাল ক্রেন ভাড়া করে আস্ত একটি এসইউভি গাড়িকে সোজা বাড়ির ছাদে তুলে ফেললেন! সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই তা নিয়ে চারদিকে শোরগোল পড়ে গেছে।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা মনোজ যাদব কর্মসূত্রে সুদূর ইজরায়েলে থাকেন। সম্প্রতি লম্বা ছুটিতে দেশে এসে তিনি শখ করে একটি নতুন ‘মহিন্দ্রা স্করপিও ক্লাসিক’ (Mahindra Scorpio Classic) গাড়ি কেনেন। ইজরায়েলে ফিরে যাওয়ার আগে তিনি গাড়িটি দেখভালের জন্য একজন চালকও নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেই চালক হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় মনোজবাবুর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। সাধের গাড়িটি কখন চুরি হয়ে যায় বা কোনো বিপদে পড়ে, সেই ভয়ে তাঁর রাতের ঘুম পুরোপুরি উড়ে যায়।

গাড়িটি নিরাপদ কোথাও সরানোর কথা ভাবা হলেও সাধারণ কোনো গ্যারেজ বা পার্কিংয়ের ওপর তিনি ভরসা রাখতে পারেননি। এরপরই মাথা খাটিয়ে এক অভিনব ও অদ্ভুত ফন্দি আঁটেন স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, গাড়িটিকে মাটি থেকে একেবারে বাড়ির ছাদে তুলে সুরক্ষিত রাখা হবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল একটি ক্রেন ডেকে আনা হয়।

দিনের আলোয় জনবহুল রাস্তায় ক্রেন দিয়ে গাড়ি তোলার এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখতে রাস্তার দু’পাশে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমে যায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, কীভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ক্রেনের শক্ত দড়ির সঙ্গে গাড়িটি বেঁধে ধীরে ধীরে শূন্যে তোলা হচ্ছে। মাটি থেকে উঁচুতে ওঠার পর অনেকটা ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে দামি এসইউভি গাড়িটি। শেষপর্যন্ত নিখুঁত কায়দায় সেটিকে বাড়ির ছাদের নির্দিষ্ট জায়গায় নামানো হয়।

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এত ভারী একটি গাড়ি বাড়ির ছাদে রাখা কতটা নিরাপদ এবং এর ফলে বাড়ির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রযুক্তিবিদ ও সাধারণ নেটিজেনরা। যদিও এই অদ্ভুত ঘটনা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।