‘ধর্ষণ হলে কি মৃত্যুই একমাত্র পথ?’ পদ্মাবতের জহর দৃশ্য নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য স্বরা ভাস্করের!

সঞ্জয় লীলা বনশালীর মেগা বাজেট ছবি ‘পদ্মাবত’ মুক্তির দীর্ঘ আট বছর অতিক্রান্ত হলেও তার বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ছবির অন্যতম আলোচিত এবং সমালোচিত সেই ‘জহর’ প্রথার দৃশ্য নিয়ে ফের একবার তীব্র আপত্তি তুললেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। সম্প্রতি দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দীপিকা পাড়ুকোনের ওই ছবির ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যকে সামনে এনে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। স্বরার সাফ কথা, কোনো মহিলা যৌন হিংসার শিকার হলে তাঁকে কেন বারংবার মনে করানো হবে যে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই তাঁর সম্মানের একমাত্র পথ?
অনুষ্ঠানে নিজের পুরোনো ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিনেত্রী জানান, ‘পদ্মাবত’-এর শেষ দৃশ্যে যখন প্রায় আট শত মহিলাকে একসঙ্গে জহর ব্রত পালন করতে দেখানো হয়, তখনই তাঁর মনে গভীর প্রশ্ন জেগেছিল। বর্তমান সমাজের বাস্তব প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই ধরনের দৃশ্য পর্দায় ফুটিয়ে তোলা তরুণ প্রজন্ম বা সাধারণ মানুষের মনে ঠিক কী বার্তা দেয়, তা নিয়ে ভেবে দেখার সময় এসেছে। স্বরার জোরালো যুক্তি, কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে বেঁচে থাকলে সেটি তাঁর অপরাধ হতে পারে না। যৌন হিংসার শিকার কোনো মানুষেরই জীবন শেষ হয়ে যায় না, বরং তাঁর বেঁচে থাকার, নতুন করে লড়াই করার এবং পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচার সমান অধিকার রয়েছে।
শুধু ক্লাইম্যাক্সেই শেষ নয়, ছবির আরও একটি নির্দিষ্ট শট তাঁকে চরমভাবে বিচলিত করেছিল বলে জানান স্বরা। তাঁর তীব্র আপত্তি ছিল জহরের ঠিক আগের একটি দৃশ্যে দেখানো এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার পেটের ক্লোজ-আপ শট নিয়ে। প্রেক্ষাগৃহেই সেই দৃশ্য দেখে তিনি বিরক্ত হয়েছিলেন উল্লেখ করে স্বরা প্রশ্ন তোলেন, গর্ভস্থ সেই সন্তানটি যদি কন্যাসন্তান হয় এবং তার ওপর ভবিষ্যতে যৌন হিংসার কোনো আশঙ্কা থাকে, তবে কি সেই সম্ভাবনার অজুহাতে তার জন্মের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কথাও বলা হবে? এই ধরণের উপস্থাপনা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ক্ষতিকর বলে দাবি তাঁর।
উল্লেখ্য, ছবি মুক্তির সময়ও পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালীকে একটি খোলা চিঠি লিখে নিজের এই প্রতিবাদের কথা জানিয়েছিলেন স্বরা। তবে তাঁর এই সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের শুরু হয়েছে জোর তরজা। সমালোচকদের একাংশের দাবি, মধ্যযুগীয় রাজপুতদের সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং তৎকালীন নারীদের আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইকে আজকের দিনের অপরাধের সঙ্গে এক করে দেখা কোনোভাবেই ঠিক নয়। ইতিহাস, সিনেমায় তার নান্দনিক উপস্থাপন এবং নারীর অধিকার ও সম্মান নিয়ে এই পুরনো বিতর্ক ফের একবার বলিউড ও রাজনৈতিক মহলের উষ্ণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।