ধনতেরাসে সোনা কিনছেন? বিলের এই ৬টি মারাত্মক ভুল না দেখলে পকেট খালি হবে গ্যারান্টি!

আসন্ন ধনতেরাস (Dhanteras 2026) এবং দীপাবলি উপলক্ষে সোনা ও রুপোর গয়না, কয়েন কিংবা মূল্যবান ধাতু কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে উৎসবের আমেজে সোনা কিনতে গিয়ে অজান্তেই বড়সড় আর্থিক প্রতারণা বা লুকানো খরচের ফাঁদে পড়ছেন না তো? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গয়না পছন্দ করার পাশাপাশি পেমেন্ট করার আগে সোনার বিলটি নিখুঁতভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। একটু অসচেতন হলেই পকেট ফাঁকা হতে পারে সাধারণ ক্রেতাদের।

স্বর্ণ কেনার সময় কোন ৬টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিলের মধ্যে অবশ্যই খতিয়ে দেখা উচিত, তা নিয়ে বিশদ সতর্কবার্তা দিয়েছেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও বাজার বিশেষজ্ঞরা।

১. খুটিয়ে দেখুন প্রতি গ্রামের দর ও ওজন:

ফিনটু-এর সিইও মণীশ পি. হিঙ্গার ও বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ইনভয়েসে বা বিলে পণ্যের স্পষ্ট বিবরণ, মোট ওজন ও নিট ওজন, বিশুদ্ধতা (যেমন—২২ ক্যারেট বা ৯১৬), প্রতি গ্রামের দর, তৈরির খরচ (মেকিং চার্জ), হলমার্কিং চার্জ, পাথরের মূল্য এবং জিএসটি (GST)—প্রতিটি বিষয় আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা ভালো করে দেখে নিন।

২. লুকানো খরচ ও বিভ্রান্তিকর বিলিং থেকে সাবধান:

অনেক সময় বিক্রেতারা ‘ওয়েস্টেজ’ (অপচয়) বা ‘ভ্যালু অ্যাডিশন’-এর খরচকে সরাসরি ‘মেকিং চার্জ’-এর সাথে মিশিয়ে দেন। আবার পাথরের ওজনের ওপর সোনার দর অনুযায়ী দাম ধরে নেওয়া হয়। বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘ট্র্যাক’-এর সিইও বেদান্ত গুপ্তের মতে, যদি কোনো নির্দিষ্ট খরচ বিলে স্পষ্টভাবে আলাদা করে উল্লেখ না থাকে, তবে তার জন্য বাড়তি অর্থ পরিশোধ করা একদমই উচিত নয়।

৩. জিএসটি (GST) এবং করের হিসাব কষে নিন:

তৈরি সোনা ও রুপোর গয়নার ওপর জিএসটি-র নির্ধারিত নিয়ম হলো মেকিং চার্জসহ মোট লেনদেন মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ। তবে আপনি যদি নিজের সোনা দিয়ে নতুন গয়না তৈরি করান, তবে কেবল মেকিং চার্জের ওপর ৫ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হয়। বিল পরিশোধের আগে বর্তমান বাজারদরের সাথে গয়নার দাম মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৪. ৬ অঙ্কের এইচইউআইডি (HUID) নম্বর যাচাই করুন:

হলমার্কযুক্ত যেকোনো সোনার গয়নায় তিনটি বাধ্যতামূলক চিহ্ন থাকা আবশ্যক—বিআইএস (BIS) লোগো, বিশুদ্ধতার চিহ্ন এবং ইউনিক ছয় অঙ্কের এইচইউআইডি (HUID) কোড। কেনার সময় ফোনের ‘বিআইএস কেয়ার’ (BIS Care) অ্যাপে এই নম্বরটি দিয়ে গয়নার খাঁটিত্ব যাচাই করে নিন এবং অবশ্যই তা ক্যাশমেমো বা বিলে প্রিন্ট করা আছে কি না নিশ্চিত করুন।

৫. ‘শূন্য মেকিং চার্জ’-এর অফারের ফাঁদ:

উৎসবের মরসুমে নানা দোকান থেকে ‘জিরো মেকিং চার্জ’ (Zero making charges)-এর লোভনীয় অফার দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন, এই ধরনের অফার দেখলে সাবধান হওয়া দরকার, কারণ এই খরচটি প্রায়শই ঘুরপথে সোনার আসল দামের সাথে বাড়িয়ে জুড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আগে থেকেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে তার ওপর বড় ছাড় দেখানোর প্রবণতাও বেশ জনপ্রিয়।

৬. জিএসটি বিল ছাড়া নগদ ছাড়ের লোভ এড়িয়ে চলুন:

অনেক সময় ক্যাশ ডিসকাউন্টের লোভে পড়ে অনেকে পাকা জিএসটি বিল নেন না। এটি ভবিষ্যতে সোনা বিক্রি বা বদলানোর সময় বড় আইনি ঝামেলা তৈরি করতে পারে। পুরনো সোনা এক্সচেঞ্জ করার সময় সঠিক নথিপত্র রাখা, অতিরিক্ত মেকিং চার্জ বা অস্পষ্ট শর্তাবলী এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যেকোনো বড় দোকান থেকে সোনা কেনার আগে অন্তত দুই-তিনটি জায়গায় দামের তুলনা করুন, এইচইউআইডি যাচাই করুন এবং নিজের কাছে সমস্ত বৈধ পেমেন্ট রিসিপ্ট বা জিএসটি বিল সুরক্ষিত রাখুন।