দিল্লির আকাশ ঢাকল পাকিস্তানের ধোঁয়ায়! ভয়ংকর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় বিশেষজ্ঞ মহল!

দীপাবলির আনন্দ উৎসব শুরু হওয়ার আগেই চরম বিষাক্ত ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং তার সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চল। বিগত বছরগুলির তুলনায় চলতি মরশুমে বেশ কিছুদিন আগেই শহরের বায়ুর গুণমান অত্যন্ত আশঙ্কাজনক স্তর থেকে সরাসরি ভয়াবহ পর্যায়ে নেমে গিয়েছে। গত সোমবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই ৩০০-র গণ্ডি স্পর্শ করার পর মঙ্গলবার তা আরও অবনতিশীল হয় এবং শহরের কমপক্ষে তিনটি প্রধান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে একিউআই ৪০০-র বিপজ্জনক মাত্রা পার করে গিয়েছে। স্থানীয় স্তরে খড় পোড়ানোর প্রথাগত কারণ তো রয়েছেই, তবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে। ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে যেভাবে নির্বিচারে খড় পোড়ানোর মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে রাজধানীর আকাশে।

নাসার ‘ফায়ার ইনফরমেশন ফর রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (FIRMS)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে কেবল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে মোট ১৩ হাজার ২৪১টি খড় পোড়ানোর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি ভারতীয় পাঞ্জাবে সংঘটিত এজাতীয় ঘটনার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। বিশেষ করে, অক্টোবরের শেষ সাত দিনের মধ্যেই ঐতিহাসিক শহর লাহোর সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ৬ হাজার ৫৫০টির বেশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ধরা পড়েছে, যার জেরে সম্প্রতি লাহোর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল। আবহাওয়াবিদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান সময়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে চলা শক্তিশালী হাওয়া সেই সমস্ত বিষাক্ত ধোঁয়া সোজা পাঞ্জাব ও হরিয়ানার ওপর দিয়ে টেনে এনে সরাসরি দিল্লির আকাশের ওপর নামিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, এই মরশুমে বায়ুর গতিবেগ অত্যন্ত কম থাকা এবং দিল্লির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই ক্ষতিকারক দূষিত কণাগুলি বাতাসে সহজে মিলিয়ে যেতে না পেরে মাটির কাছাকাছি ঘন স্তর তৈরি করে জমাট বেঁধে থাকছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ দিকে একবার বৃষ্টির কল্যাণে দিল্লির একিউআই নেমে এসেছিল ৬০-তে এবং গত আট বছরের মধ্যে অক্টোবর মাসে সবচেয়ে পরিষ্কার বাতাস পেয়েছিল রাজধানী। কিন্তু সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দিল্লি প্রশাসন ইতিমধ্যেই কঠোর ‘গ্র্যাপ-২’ (GRAP II) বা গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ জারি করেছে। এর আওতায় শহরে ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত রাস্তায় জল ছেটানো, একাধিক অ্যান্টি-স্মোগ গান বা ধোঁয়া দমন যন্ত্রের ব্যবহার এবং যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাস্তা পরিষ্কারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে সেন্ট্রাল পল্যুশন কন্ট্রোল বোর্ডের শীর্ষ আধিকারিকরা তীব্র সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, আবহাওয়ার এই অপরিবর্তিত ধারা বজায় থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিল্লির বায়ুদূষণ স্থায়ীভাবে আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ উভয়কেই গভীর উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।