দিল্লিতে বিষাক্ত বাতাস, লাগু হলো GRAP-2! হোটেলের তন্দুর থেকে ডিজেল জেনারেটর— কী কী পুরোপুরি নিষিদ্ধ?

রাজধানী দিল্লি ও তার আশেপাশের এনসিআর (NCR) এলাকায় আবারও বাতাসের গুণমান ভয়াবহ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। ক্রমশ অবনতিশীল বায়ু দূষণ সামাল দিতে অবিলম্বে কার্যকর করা হলো GRAP-2 (Graded Response Action Plan Phase 2)। বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (CAQM)-এর নির্দেশ অনুযায়ী ২ নভেম্বর থেকেই এই কড়া বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে দিল্লি ও সংলগ্ন শহরগুলিতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় একাধিক বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
📉 কেন কার্যকর করা হলো GRAP-2?
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন বায়ুর গুণমান সূচক বা AQI (Air Quality Index) ৩০০ পার করে ‘অত্যন্ত খারাপ’ (Very Poor) বিভাগে প্রবেশ করে, তখনই GRAP-২ বলবৎ করা হয়। বর্তমানে দিল্লির বাতাসের গড়ে AQI দাঁড়িয়েছে ৩২৪। পূর্বের GRAP-1 ব্যবস্থার নিয়মাবলী বহাল রাখার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হলো এই দ্বিতীয় ধাপে।
🚫 কী কী নতুন বিধিনিষেধ জারি করা হলো?
১. ডিজেল জেনারেটর নিষিদ্ধ: বাণিজ্যিক, শিল্প এবং আবাসিক এলাকায় ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে হাসপাতাল এবং অন্যান্য অতীব জরুরি পরিষেবা কেন্দ্রগুলি এই আওতার বাইরে থাকবে।
২. হোটেল ও রেস্তোরাঁয় তন্দুর ও কয়লা নিষিদ্ধ: তন্দুর এবং রেস্তোরাঁগুলিতে কয়লা বা কাঠ পুড়িয়ে রান্না করা যাবে না। এর পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব এলপিজি বা ইলেকট্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. ব্যক্তিগত গাড়িতে লাগাম, বাড়বে পার্কিং ফি: রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড় কমাতে এবং গণপরিবহন (মেট্রো ও বাস) ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এলাকাভিত্তিক পার্কিং ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে।
৪. ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর পরামর্শ: অফিসে যাতায়াতের কারণে সৃষ্ট দূষণ কমাতে বেসরকারী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কর্মচারীদের বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) করার পরামর্শ দিয়েছে CAQM।
ধোঁয়াশা এবং ধূলিকণা কমাতে রাস্তাঘাটে জল ছেটানোর গতি বাড়ানোর পাশাপাশি নির্মাণকাজ এবং শিল্পক্ষেত্রগুলিতেও কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।