দানবাক্সে হাত! রাম মন্দিরের কোটি কোটি টাকার সোনা-রুপো ও নগদ গায়েব, তদন্তে SIT

অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে উঠেছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মন্দিরের দানবাক্সে জমা পড়া কোটি কোটি টাকার সোনা, রুপো, গয়না এবং নগদ অর্থ তছরুপের অভিযোগে পুলিশে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সন্তোষ দুবে নামে এক ব্যক্তি রাম জন্মভূমি থানায় লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, মন্দির ট্রাস্টের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশে ২০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের তহবিল এবং মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, প্রতিদিন ভক্তরা মন্দিরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান গয়না দান করেন, কিন্তু হিসাবপত্রে কারচুপি ও প্রকৃত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রেখে এই বিশাল অংকের চুরি সংগঠিত হয়েছে। সন্তোষ দুবে এই ঘটনায় সরাসরি মন্দির ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি চম্পত রায়, অনিল মিশ্র, গোপালজি রাও এবং তিনু যাদবের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, রাম ভক্ত এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে এটি চূড়ান্ত প্রতারণা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এই দলে রয়েছেন সিনিয়র আইপিএস অফিসার বিজয় বিশ্বাস পান্ত, আইপিএস অফিসার এস. কিরণ এবং অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীল রতন। এসআইটি ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে, সোমবার ৪০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার তদন্তকারী দলের সদস্যরা রাম মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেন।
অভিযোগকারী কেবল এফআইআর দায়ের বা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতেই থেমে থাকেননি, তিনি অভিযুক্তদের পলিগ্রাফ পরীক্ষারও দাবি জানিয়েছেন। মন্দিরের হারিয়ে যাওয়া সোনা, রুপো এবং গয়না উদ্ধারের পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত সত্য উন্মোচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাম মন্দির তহবিল সংক্রান্ত এই অভিযোগটি নতুন নয়। সম্প্রতি সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদবও মন্দির থেকে তহবিল গায়েব হওয়ার দাবি তুলেছিলেন, যা দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। অখিলেশ যাদবের ওই মন্তব্যের পরেই সন্তোষ দুবের এই লিখিত অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাম ভক্তদের মনে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এসআইটি এখন খতিয়ে দেখছে কীভাবে হিসাবপত্রে জালিয়াতি করা হয়েছে এবং ঠিক কত টাকার সম্পদ গায়েব হয়েছে। মন্দিরের নিরাপত্তার খাতিরে এবং ধর্মীয় পবিত্রতা বজায় রাখতে এই মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি উঠেছে সর্বস্তরে। এখন আদালতের নির্দেশে বা তদন্তের প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে এই মামলায় আরও বড় কোনো নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।