ট্র্যাক থেকে বাঁচল ৬ হাতির জীবন! লোকো পাইলট ও কর্মীদের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল বন্যপ্রাণীরা

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (N.F. Railway) আরও একবার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং হাতিপ্রবণ এলাকায় সুরক্ষিত ট্রেন পরিচালনার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার প্রমাণ করল। লোকো পাইলট এবং কর্মীদের অসাধারণ সতর্কতা, নিষ্ঠা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে সম্প্রতি রেলওয়ের বিভিন্ন সেকশনে বেশ কয়েকটি হাতিকে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
সতর্কতার তিনটি উদাহরণ:
সাম্প্রতিক সময়ে রেলকর্মীদের এমন মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে:
১. আলিপুরদুয়ার ডিভিশন (১০ অক্টোবর, ২০২৫): টাওয়ার ওয়াগন চালক শ্রী জিতেন্দ্র কুমার কর্তব্যরত অবস্থায় রাজাভাতখাওয়া এবং কালচিনি সেকশনের মধ্যে দুটি হাতিকে রেললাইন পার হতে দেখেন। দ্রুত ব্রেক প্রয়োগ করে তিনি ওয়াগনটিকে সম্পূর্ণরূপে থামিয়ে দেন এবং দুটি হাতিকে ধাক্কা লাগার সম্ভাব্য ঘটনা থেকে রক্ষা করেন।
২. তিনসুকিয়া ডিভিশন (১৬ অক্টোবর, ২০২৫): একটি স্পেশাল ট্রেনের লোকো পাইলট শ্রী সত্যেন্দ্র যাদব এবং সহকারী লোকো পাইলট শ্রী সুদর্শন হাতিমুরিয়া মরিয়নি-তিতাবর সেকশনে চারটি হাতিকে ট্র্যাক পার হতে দেখেন। তাঁরা দ্রুত ট্রেন থামিয়ে চারটি হাতির জীবন রক্ষা করেন।
৩. তিনসুকিয়া ডিভিশন (২৪ অক্টোবর, ২০২৫): ২০৫০৩ (ডিব্রুগড় – নিউ দিল্লি) রাজধানী এক্সপ্রেসের চালক দল, লোকো পাইলট শ্রী লালমন এবং সহকারী লোকো পাইলট শ্রী বিনিত গুপ্তা, বোকাজান-খটখটি সেকশনের মাঝামাঝি ট্র্যাকে একটি হাতি দেখতে পান। তাঁরা আপৎকালীন ব্রেক লাগিয়ে ট্রেন থামান, যার ফলে হাতি এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
বন্যপ্রাণী রক্ষায় রেলের উদ্যোগ:
ভারতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্কে দীর্ঘতম হাতি করিডোর-সহ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বন্যপ্রাণী সুরক্ষার পাশাপাশি সুরক্ষিত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই রেলওয়ে ক্রমাগত সংবেদনশীল এলাকায় হাতি-ট্রেন সংঘর্ষ কম করার জন্য ইন্ট্রুশন ডিটেকশন সিস্টেম, আন্ডারপাস নির্মাণ এবং টহল ব্যবস্থা বৃদ্ধিকরণের মতো অত্যাধুনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। লোকো পাইলটদের এই ধারাবাহিক মানবিক প্রচেষ্টা রেলের সামগ্রিক সুরক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতারই প্রতিফলন।