জোড়া ঘূর্ণাবর্তের পরেই আবহাওয়ার উলটপুরাণ! কালীপুজোর আগেই চরম আপডেট দিল আলিপুর

জোড়া শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের টানা দাপট শেষ হতেই রাজ্যজুড়ে পালটে গেল আবহাওয়ার মেজাজ। সমুদ্রের ওপর তৈরি হওয়া প্রথমে ‘অর্ণব’ এবং তার পরপরই ‘মুরাসু’—এই দুই বিধ্বংসী ঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরাসরি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির সম্মুখীন হতে হয়েছিল মানুষকে। তবে সমস্ত নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের কালো মেঘ কেটে যেতেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশে আবারো সগৌরবে ফিরে এসেছে হেমন্তের চিরাচরিত মিষ্টি আমেজ। ধাপে ধাপে তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় এক ধাক্কায় রাজ্যজুড়ে বাড়ল শীতের শিরশিরানি।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক ও মনোরম থাকবে। কলকাতা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে কালীপুজোর দিনগুলিতে যাঁরা মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত আশার ও স্বস্তির খবর। উৎসবের দিনে বৃষ্টির কোনো বাধা থাকছে না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

বৃষ্টি থামার পর থেকেই এ রাজ্যে হু হু করে নামছে পারদ। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বীরভূম, শ্রীনিকেতন এবং আসানসোলের মতো এলাকাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

অন্যদিকে, রাজধানী কলকাতায় আগামী কয়েকদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভোরের দিকে এবং গভীর রাতে হালকা ছ্যাঁকা দেওয়া শীতের অনুভূতি উপভোগ করতে পারবেন শহরবাসী। সব মিলিয়ে উৎসবের মরশুমে শুষ্ক আবহাওয়া আর হালকা শীতের পূর্বাভাসে বেজায় খুশি আমজনতা।