জোড়াফুল প্রতীক ও দল কি হাতছাড়া? নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে বড় মোড়, কী জানাল আদালত?

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশের বিরুদ্ধে করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রিট পিটিশন সংক্রান্ত মামলাটি এবার প্রবেশ করল সর্বোচ্চ আদালতে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। মামলার গুরুত্ব ও তীব্রতা বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত দ্রুত শুনানির এই আবেদন গ্রহণ করেছে।
আদালতের অন্দরে কপিল সিব্বলের সওয়াল
আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে জানান যে এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল গত জুন মাসে এবং তাঁরা জুলাই মাসেই নিজেদের বক্তব্য জমা দিয়েছিলেন। অথচ এতদিন নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ না করে সরাসরি নির্বাচনের ঠিক মাঝপথে দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবারই কমিশন এমন একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে জানান যে এই বিষয়ে অন্য পক্ষগুলিরও কিছু বলার থাকতে পারে। এর উত্তরে কপিল সিব্বল দ্রুত শুনানির প্রয়োজনীয়তার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত দ্রুত শুনানির আবেদন মঞ্জুর করে।
প্রতীক যুদ্ধের পটভূমি: গত শুক্রবার নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে জোড়াফুল প্রতীক ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস—দুটির কোনোটিরই আর প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব নেই। ভোটের বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষকে আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। মমতার শিবিরের নতুন নাম দেওয়া হয় ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘ফুটবলার’। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম রাখা হয় ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘খাম’।
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই জোড়াফুল প্রতীক ও দলের নাম হাতছাড়া করতে নারাজ থেকে শুক্রবার রাতেই সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুটি আসনে উপনির্বাচনের ঠিক আগে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলার জল কত দূর গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহল।