জলরাশির নিচে বুলেট ট্রেনের গর্জন! আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ঘণ্টার ৩২০ কিমি বেগে ছুটবে ট্রেন!

কলকাতায় গঙ্গার তলদেশ দিয়ে মেট্রো চলাচলের সাফল্য ভারতবাসী ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছে। তবে এবার ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটতে চলেছে। মেট্রো ছাড়িয়ে এবার সরাসরি সমুদ্রের গভীর তলদেশ দিয়ে ৩২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ছুটবে হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের অধীনে মুম্বই থেকে আমদাবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেগা ডাবল-ট্র্যাক বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজ এখন চরম গতিতে এগিয়ে চলেছে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে ট্রেন চলাচলের সূচনা হতে চলেছে।

রেল সূত্রের খবর, এই ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাপথের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর অংশ পাতালে নির্মিত হচ্ছে। মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্স (BKC) থেকে থানের শিলফাটা পর্যন্ত মোট ২১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি সুবিশাল মাটির নিচের সুড়ঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে টানা ৭ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে থানে খাঁড়ির বুক চিরে, অর্থাৎ যাত্রী ও বুলেট ট্রেনের ঠিক মাথার ওপর বইবে আরব সাগরের উত্তাল জলরাশি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৫৫ মিটার গভীরে অস্ট্রিয়ান প্রযুক্তির অত্যাধুনিক সুড়ঙ্গ খোদাই যন্ত্রের (TBM) সাহায্যে ইতিমধ্যেই ১৬ কিলোমিটার পথ খননের কাজ সাফল্যজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাহাড় ও কঠিন শিলা থাকার দরুন বাকি অংশের কাজ অত্যন্ত সাবধানে এগোচ্ছে।

ন্যাশনাল হাইস্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) এই সুড়ঙ্গে পাশাপাশি দুটি আপ ও ডাউন ট্র্যাক বসাচ্ছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে, কাজের গতি অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই সুড়ঙ্গ পথ তৈরি সম্পন্ন হবে। পুরো যাত্রাপথে মোট ১২টি বিশ্বমানের স্টেশন থাকবে—মুম্বই বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্স, থানে, ভিরার, বোইসার, ভাপি, বিলিমোরা, সুরাত, ভরুচ, ভদোদরা, আনন্দ, আমদাবাদ এবং সবরমতী। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এটি হতে চলেছে প্রযুক্তির অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিস্ময়।