জন্ডিসে বিলিরুবিন ১৩.৬! ডাক্তারের বারণ অমান্য করে ওই অবস্থাতেই কেন শ্যুটিং ফ্লোরে ছুটেছিলেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়?

বাংলা টেলিভিশনের দুনিয়ায় কালজয়ী ধারাবাহিকগুলির কথা উঠলে ‘জন্মভূমি’-র নাম সবার আগে উঠে আসে। সেই মেগার বহু পুরনো স্মৃতি ও পর্দার পেছনের অজানা গল্প এবার অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবীণা অভিনেত্রী মমতা শঙ্করের সঙ্গে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে অভিনেতা জানালেন এমন এক সংগ্রামের কথা, যা শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে।

পোস্টে ভাস্বর স্মরণ করেছেন, ‘জন্মভূমি’ ধারাবাহিকে সুযোগ পাওয়ার আগের কঠিন লড়াইয়ের দিনগুলি। কীভাবে অডিশনে ডায়লগ মুখস্থ করেও বারবার বাদ পড়ে যাওয়ার ফলে মন খারাপ হতো, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে আসল চমক লুকিয়ে রয়েছে পরবর্তীতে সুযোগ পাওয়ার পরের অধ্যায়ে।

অভিনেতার কথায়, যখন জেনারেশন লিপের পর তাঁকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। ভগত সিং-এর ডাবিং সেরে কলকাতা ফেরার পর তাঁর জন্ডিস ধরা পড়ে। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা পৌঁছে গিয়েছিল ১৩.৬-এ। চিকিৎসকরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু এত বড় সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি ছিলেন না তরুণ ভাস্বর।

অড়হর পাতার রস খেয়ে বিলিরুবিন কিছুটা কমানোর পর দুর্বল শরীর নিয়েই সোজা শ্যুটিং ফ্লোরে হাজির হন তিনি। বাড়ি থেকে আলাদা খাবার ও জলের বন্দোবস্ত করে চলত কড়া ডায়েট। সেটে কাজ করার সময় প্রায়ই মাথা ঘুরে যাওয়া কিংবা শারীরিক কষ্ট হলেও জেদের বশে কাউকে তা বুঝতে দেননি। এমনকি যে ছবিটি তিনি শেয়ার করেছেন, তাতেও তাঁর চোখে জন্ডিসের মৃদু হলুদ আভা স্পষ্ট। দীর্ঘ সময় পর অভিনেতার এই না-বলা গল্প প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে গেছে অনুরাগী মহলে।