চোরবাগান কাণ্ড থেকে বড় শিক্ষা! অষ্টমীর পুজো ও সন্ধিপুজোয় সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করল দক্ষিণ কলকাতার এই বিখ্যাত ক্লাব

কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদপিষ্টের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতার প্রায় প্রতিটি পুজো কমিটি। চোরবাগানে ভিড়ের চাপে ১ শিশুসহ ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনার পরে শহরজুড়ে মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে চরম সতর্কতা জারি হয়েছে। আর এই আবহে বড়সড় ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম হেভিওয়েট পুজো কমিটি—মুদিয়ালি ক্লাব।

মুদিয়ালি ক্লাবের কড়া সিদ্ধান্ত

চোরবাগানের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করেছে মুদিয়ালি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। দর্শকদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে রেখে জানানো হয়েছে, অষ্টমীর পুজো এবং বিশেষ করে সন্ধিপুজোর পবিত্র ও ব্যস্ততম সময়ে এই মণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়সূচি বেঁধে দিয়ে জানানো হয়েছে, সকাল ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জনসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। মূলত অতিরিক্ত ভিড় এড়াতেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুদিয়ালির পাশাপাশি এদিন মহম্মদ আলি পার্ক এবং কলেজ স্কোয়্যার-সহ কলকাতার একাধিক নামী মণ্ডপের নিরাপত্তা ও জনবহুল পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

ঠিক কী ঘটেছিল চোরবাগানে?

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি নামায় বিপত্তি ঘটে। চোরবাগান মণ্ডপের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত মানুষ একযোগে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, বেরোনোর এক্সিট গেটের রাস্তাটি ক্রমশ সরু হয়ে যাওয়ায় মানুষ সহজে বের হতে পারছিলেন না। এরমধ্যেই মণ্ডপের মাইক থেকে একটি আতঙ্কজনক ঘোষণা করা হয় যে— “প্যান্ডেলের অবস্থা খুব খারাপ, আপনারা দ্রুত বেরিয়ে যান, প্যান্ডেল ভেঙে পড়তে পারে…”। এই ঘোষণার পরেই প্যান্ডেলের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ির জেরে সেই ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।

ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তাই চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ কলকাতার মুদিয়ালি ক্লাব সহ অন্যান্য পুজো কমিটিগুলি এখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।