চিন্ময় প্রভুর মতো দশা হত আমাদেরও! ওপারের জল মাপতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর!

শনিবার কেষ্টপুরে একটি গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে বাংলাদেশ ওপার বাংলার সংখ্যালঘু অত্যাচার এবং চিন্ময় প্রভুর প্রসঙ্গ তুলে এক বিস্ফোরক রাজনৈতিক বিতর্ক উস্কে দিলেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হওয়ার একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং এটি মূলত বাঙালি হিন্দুদের হোমল্যান্ড। ওপার বাংলার সনাতনীদের ওপর চলা নির্মম অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, সঠিক সময়ে রুখে না দাঁড়ালে তাঁদের অবস্থাও ঠিক চিন্ময় প্রভুর মতো হতে পারত এবং তাঁর নিজের মাকেও একসময় পিতার হাত ধরে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হতে হয়েছিল।
গণেশ পুজোর প্রথাগত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তিনি অতীতের বাম জমানার বিরুদ্ধেও তীব্র আক্রমণ শানান। ৩৪ বছরের দীর্ঘ লাল রাজত্বকে নিশানা করে তিনি বলেন, অতীতে যে সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি আমাদের প্রকাশ্যে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দটি লিখতে বাধা দিত, তারাই আবার পুজো মণ্ডপের ঠিক পাশেই লাল শালু টাঙিয়ে বুক স্টল খুলে বসে থাকত। সেই স্টলগুলিতে স্বামী বিবেকানন্দ, প্রভু বুদ্ধ কিংবা রামকৃষ্ণদেবের কোনো অমূল্য গ্রন্থ খুঁজে পাওয়া যেত না, পরিবর্তে সেখানে কেবল কার্ল মার্কসের বই সাজানো থাকত। অতীতের সেই বিতর্কিত দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর অহংকার ও তুঘলকী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কীভাবে তিনি বারবার লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, তা আজ সর্বজনবিদিত।
এদিনের বক্তব্য থেকে বর্তমান রাজ্য সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী ও নেতাদের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলতেও পিছপা হননি শুভেন্দু। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে যে লম্বা মন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে দিন কাটাচ্ছেন, তিনিই আগে নিয়ম করে বিভিন্ন পুজোর উদ্বোধন করতে আসতেন। তবে সেই সমস্ত অন্ধকার দিন পেছনে ফেলে সনাতনী সংস্কৃতির আসল ঐতিহ্যকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অষ্টমী তিথিতে মদ্যপান নিষিদ্ধ করার মতো প্রাচীন সামাজিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার পক্ষে সওয়াল করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, গণপতি বাপ্পা থেকে শুরু করে দুর্গাপূজা কিংবা ছট পুজো—এই সমস্ত উৎসবই সমস্ত ভারতবাসীর এবং আমরা প্রত্যেকেই গর্বিত হিন্দুস্তানি।