চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিরাট সুখবর! রাজ্য মন্ত্রিসভায় বিপুল নিয়োগের সবুজ সংকেত, বয়সেও মিলবে ছাড়

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় বার্তা। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে স্বচ্ছতার সঙ্গে ২৭,৫৫৬ পদে কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নতুন নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী মাসগুলোতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

নিয়োগের বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে। কোনো দুর্নীতি বা অস্বচ্ছতা বরদাস্ত করা হবে না।

বয়সে মিলবে ছাড়, এড়ানো হবে আইনি জটিলতা

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে নিয়ম মেনে নিয়োগ থমকে ছিল। তাই আমরা নতুন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ বিধি চালু করতে চলেছি। চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধার্থে কিছু ক্ষেত্রে বয়সেরও বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের জন্য যাতে কাউকে আদালতের দ্বারস্থ হতে না হয়, তা নিশ্চিত করবে সরকার। স্বচ্ছতা এমনভাবেই বজায় রাখা হবে যে, কেউ আদালতে গেলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা আসবে না।”

কোন কোন দফতরে নিয়োগ?

মূলত রাজ্য পুলিশ বাহিনী এবং বন দফতরে (Forest Department) এই বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হবে। এছাড়া অন্যান্য বেশ কিছু সরকারি বিভাগেও ধাপে ধাপে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

ওবিসি (OBC) জটিলতার অবসান

নিয়োগ আটকে থাকার পেছনে ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা অন্যতম বড় কারণ ছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার ওবিসি বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনেছে এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যার ফলে আটকে থাকা নিয়োগের পথ এখন পুরোপুরি পরিষ্কার।

পুলিশ সংস্কার ও আর্থিক সুরক্ষা

রাজ্যের সীমান্ত পরিস্থিতি (বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ২,২০০ কিমি দীর্ঘ সীমান্ত) এবং ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি পুলিশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেন।

  • সপ্তম বেতন কমিশন: পুলিশ কর্মীরা এতদিন ধরে বঞ্চিত ছিলেন। তাঁদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • বিশেষ প্রশিক্ষণ: পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক ও সুপ্রশিক্ষিত করে তুলতে আসামের একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি পুলিশ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সঙ্গে ইতিমধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হবে।

  • জরুরি সেবা (112 Service): উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটের মতো বাংলায়ও পুলিশি সহায়তার ‘রেসপন্স টাইম’ ৬ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

নারী সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’

রাজ্যকে মাদকমুক্ত করার কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নারীদের সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মহিলাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ ঘটলে পুলিশকে বিন্দুমাত্র দেরি না করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র দফতর সম্পূর্ণভাবে পুলিশ প্রশাসনের পাশে থাকবে।