“গত ১ বছরে একজন জওয়ানও শহিদ হননি!” ৪৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন মোদী

নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘ লড়াইয়ে অর্জিত হয়েছে ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব এক সাফল্য। দেশ থেকে নকশালবাদের কালো ছায়া এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন—এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও গর্ভিত দাবি করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিরাট সাফল্যের নেপথ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের অদম্য সাহস, প্রভূত সংযম ও দৃঢ় সংকল্পকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন তিনি।

রবিবার ছত্তিশগড়ের নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বস্তারে জওয়ানদের সঙ্গে আলোর উৎসব দীপাবলি উদযাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক তথ্য প্রকাশ করেন। মোদী জানান, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় একজন সিআরপিএফ (CRPF) জওয়ানও প্রাণ হারাননি। বিগত ৪৭ বছরের ইতিহাসে এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা এই প্রথম বলে উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৪ সালের পর বদলে যাওয়া ভারত

বস্তারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বীর জওয়ানদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সোজা ব্যাটে জানান, ২০১৪ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাওবাদী দমনে এক আমূল ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। সরকারের অদম্য ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ এবং সুনির্দিষ্ট কৌশলের কারণেই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুদৃঢ় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, “দেশকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিতে হলে শত্রুদের বিরুদ্ধে আপোসহীন সংকল্প এবং নিখুঁত পরিকল্পনা নিয়ে লড়াই চালাতে হয়। দীর্ঘ বহু বছর ধরে ভারতের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে যে সদিচ্ছার বড় অভাব ছিল, ২০১৪ সালের পর তা পুরোপুরি বদলে গেছে।”

২০০৪-২০১৩: আগের সরকারগুলোকে তীব্র কড়া আক্রমণ

বক্তব্যের একপর্যায়ে আগের সরকারগুলোর মেয়াদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তীব্র আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের উদাহরণ টেনে মোদী বলেন, “ঐ সময়ে প্রতি বছর আমাদের যত বীর সেনা বা নিরাপত্তা কর্মী শহিদ হতেন, তার সংখ্যা নিহত নকশালদের থেকেও অনেক বেশি ছিল! তখনকার সরকারগুলো নকশাল সমস্যাকে একপ্রকার ‘অসাধ্য বা নিরাময়-অযোগ্য’ ব্যাধি ধরে নিয়ে চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থেকেছিল।”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন ২০১০ সালের দান্তেওয়াড়ার সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা, যেখানে মাওবাদী হামলায় এক লহমায় ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন এবং অন্য একটি ঘটনায় ৪৪ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। কেবল ছত্তীসগড়েই ১ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মীর প্রাণ গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ, সেই সময় দেশের প্রভাবশালী ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের গলা থেকে এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদটুকুও শোনা যায়নি।

“২০২৬-এর দীপাবলি বিশেষ”:

সম্পূর্ণ নকশালমুক্ত ভারত ২০২৬ সালের এই দীপাবলিকে ভারতের ইতিহাসে এক বিশেষ ও স্মরণীয় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন মোদী। তিনি ঘোষণা করেন, বহু দশকের লড়াই শেষে ভারত আজ নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত জয় অর্জন করেছে। দেশের প্রতিটি জেলা আজ সম্পূর্ণভাবে ‘নকশালমুক্ত’।

প্রধানমন্ত্রীর আবেগময়ী উক্তি, “আজ দেশের কোটি কোটি মানুষ কোনো মাওবাদী আতঙ্ক ছাড়াই শান্তিতে উৎসব উদযাপন করছেন। ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে আমি আজ বস্তারের এই পবিত্র মাটিতে এসেছি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে। দেশের সীমান্তে থাকা সেনা এবং অভ্যন্তরে শান্তি বজায় রাখা জওয়ান—দু’পক্ষের আত্মত্যাগই ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতার মূল ভিত্তি।” অনুষ্ঠান শেষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দিনরাত দায়িত্ব পালন করা সমস্ত বীর নিরাপত্তা কর্মীকে দীপাবলির আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।