খেলার ছলেই বুকে সেঁধিয়ে গেল ধারালো ধাতব ব্লেড! সিভিল হাসপাতালের চিকিৎসকদের অলৌকিক চিকিৎসায় মিরাকেল

দাদার সঙ্গে খেলায় মেতে থাকার সময় সামান্য এক মুহূর্তের অসাবধানতায় ঘটতে বসেছিল চরম ট্র্যাজেডি। খেলার ছলেই আচমকা ৩ বছরের এক শিশুকন্যার বুকের ছাতি ভেদ করে ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল আস্ত একটি বড় ধারালো কাঁচি! তবে চিকিৎসকদের সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও অবিশ্বাস্য সূক্ষ্ম অস্ত্রোপচারের গুণে শেষ পর্যন্ত অলৌকিক প্রাণরক্ষা পেল নিষ্পাপ শিশুটি। আহমেদাবাদের মেগা সিভিল হাসপাতালের চিকিৎসকদের এই যুগান্তকারী সাফল্যে রাজ্য জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

খেলার ছলেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছিল গত মাসে আহমেদাবাদে। আক্রান্ত শিশুকন্যার বাবা-মা মূলত গুজরাটের কচ্ছ এলাকার পরিযায়ী শ্রমিক। ঘটনার দিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ নিজের দাদার সঙ্গেই মেজেতে খেলাধুলা করছিল ৩ বছরের ওই পুঁচকে শিশুটি। খেলার মাঝেই দুর্ঘটনাবশত হাতের কাছে থাকা একটি বড় ধারালো কাঁচি শিশুটির বুকের পাঁজর ভেদ করে সোজাসুজি ভেতরের দিকে ঢুকে যায়। মারাত্মক যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠতে দেখে তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় হাসপাতাল থেকে রেফার ও জটিল অস্ত্রোপচার: রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুকন্যাকে প্রথমে স্থানীয় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তৎক্ষণাৎ গান্ধীধামে স্থানান্তরিত করে জরুরি ভিত্তিতে সিটি স্ক্যান (CT Scan) সম্পন্ন করা হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব ও ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে গান্ধীধাম থেকে শিশুটিকে সোজা ‘সিভিল হাসপাতাল আহমেদাবাদ’-এ রেফার করা হয়।

সেখানে পে পৌঁছানোর পর শিশু শল্যচিকিৎসা বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। হাসপাতালের প্রবীণ চিকিৎসক ডঃ রাকেশ যোশীর সার্বিক নির্দেশনায় এবং সহকারী অধ্যাপক ডঃ কাশ্বী ও ডঃ মৃণালিনীর নেতৃত্বে শিশু শল্যচিকিৎসক ও দক্ষ অ্যানেস্থেটিস্টদের একটি বিশেষ টিম মেগা অপারেশনে নামেন। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত টেকনিকে শিশুটির শরীরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি না করেই সফলভাবে বুক চিরে উদ্ধার করা হয় সেই মরণঘাতী কাঁচিটি।

“আর মাত্র এক ইঞ্চি সরলেই নিশ্চিত মৃত্যু ছিল!” অস্ত্রোপচার পরিচালনাকারী চিকিৎসকদের টিমের এক সদস্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জানান, “শিশুটি একপ্রকার অলৌকিকভাবে এবং সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়েছে। ধারালো কাঁচিটির অবস্থান যদি আর মাত্র এক ইঞ্চি উপরে বা পাশে সরে যেত, তবে শরীরের অতি সংবেদনশীল প্রধান প্রধান রক্তনালী অথবা শ্বাসনালী সরাসরি ফুটো হয়ে যেত। পাঁজরের মধ্যবর্তী নালী ক্ষতিগ্রস্ত হলে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে কয়েক মিনিটেই শিশুটির মৃত্যু ঘটতে পারত।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, শিশুটির বয়স ছোট ও হাড় নমনীয় থাকায় ভাগ্যক্রমে কাঁচির ব্লেডগুলি পাঁজরের অভ্যন্তরীণ গভীরে থাকা অন্যান্য ভাইটাল অর্গান স্পর্শ করতে পারেনি। সিভিল হাসপাতাল সূত্রে খবর, সফল অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে শিশুকন্যাটির শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাকে সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হবে।