উত্তরাখণ্ডে হাড়হিম হিমঝড়! কেদারতালে নিখোঁজ বাংলার ৫ পর্বতারোহী, তুষারস্তূপ থেকে উদ্ধার ২ দেহ

উত্তরাখণ্ডের দুর্গম কেদারতাল এলাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে ভয়াবহ তুষারঝড়ের মুখে পড়ে নিখোঁজ বাঁকুড়ার পাঁচ বাসিন্দা-সহ ৮ জন। গত পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজদের খোঁজে হাড়হিম ঠান্ডায় দুর্গম পাহাড়ি পথে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছ উত্তরাখণ্ড প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার তুষারস্তূপের নিচ থেকে দুই অভিযাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার খবরে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কীভাবে ঘটল এই হিমালয় ট্র্যাজেডি? স্থানীয় প্রশাসন ও সূত্রের খবর, গত ২৭ অক্টোবর গঙ্গোত্রী থেকে কেদারতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ১২ জনের একটি অভিযাত্রী দল। যার মধ্যে ছিলেন ৭ জন মূল পর্বতারোহী, ১ জন গাইড, ১ জন রাঁধুনি এবং ৩ জন স্থানীয় পোর্টার। শুরুতে আবহাওয়া সম্পূর্ণ পরিষ্কার থাকলেও, ২৯ অক্টোবর হঠাৎই হিমালয়ের বুকে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। আচমকা নামা মরণঘাতী তুষারঝড় ও পাহাড় বেয়ে হুড়মুড় করে নেমে আসা তুষারধসে মাঝপথেই আটকে পড়ে দলটি। ৪ জন কোনোক্রমে প্রাণ হাতে নিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারলেও গাইডসহ বাকি ৮ জন বরফের নিচে চাপা পড়েন।
কারা রয়েছেন এই নিখোঁজের তালিকায়? উত্তরাখণ্ড সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ হওয়া বাংলার পাঁচ পর্বতারোহী হলেন— তাপসী বাউড়ি, রতন ঘোষ, মনোজ খোভাস, রিন্টু মণ্ডল এবং উদয় ঘোষ। তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ২৩ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং তাঁরা সকলেই বাঁকুড়ার বাসিন্দা। এছাড়া তাঁদের সঙ্গে থাকা এক গাইড ও অন্য সঙ্গীদেরও এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।
প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেনার উদ্ধার অভিযান: উত্তরাখণ্ড পুলিশের রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং বিখ্যাত নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং (NIM)-এর অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে এই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। উত্তরকাশী জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, তুষারধসের নিচে চাপা পড়া এক নারী ও এক পুরুষের দেহ মঙ্গলবার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া দেহ দুটি বাঁকুড়ার নিখোঁজ অভিযাত্রীদের কি না, তা সনাক্তকরণের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আকাশপথে নজরদারি ও দ্রুত রেস্কিউ অপারেশনের জন্য বায়ুসেনার বিশেষ হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে প্রবল তুষারপাত ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার বিকেল ৩টে নাগাদ সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ স্থগিত রেখে বেসক্যাম্পে ফিরে আসতে বাধ্য হয় রেস্কিউ টিম। বুধবার সকাল থেকে ফের নতুন উদ্যমে নিখোঁজদের খোঁজে বড়সড় উদ্ধার অভিযান শুরু করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। বাড়ি থেকে দূরে পাহাড়ের বুকে আটকে থাকা প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় এখন বুক বাঁধছেন বাঁকুড়ার পরিবারগুলি।