খুব কম খরচে প্রতিদিনের যাতায়াত করতে চান? রিমুভেবল ব্যাটারি আর দারুণ ফিচারের এই স্কুটার এখনই ঘরে আনুন

কম খরচে এবং ঝামেলাহীন যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে বাজারে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইলেকট্রিক স্কুটার। যাঁরা মূলত শহরের মধ্যে ছোটখাটো যাতায়াত বা ডেলিভারির কাজের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অথচ সাশ্রয়ী বাহন খুঁজছেন, তাঁদের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি বিকল্প হতে পারে EOX ব্র্যান্ডের ই-স্কুটার মডেল ‘E2’। এই ই-স্কুটারের সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ২৫ কিলোমিটার হওয়ায় এটি চালাতে যেমন কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না, তেমনই কোনো ধরনের RTO রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলাও পোহাতে হয় না। ফলে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে গৃহবধূ বা বয়স্ক ব্যক্তি—সকলের জন্যই এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক একটি বাহন হিসেবে বাজারে জায়গা করে নিয়েছে।
পারফরম্যান্সের দিক থেকেও এই স্কুটারটি বেশ নজরকাড়া। এতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি শক্তিশালী লিথিয়াম ব্যাটারি, যা অত্যন্ত সহজেই খুলে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যায়। যাঁরা ফ্ল্যাটে বা উঁচুতলায় থাকেন, তাঁদের জন্য এই রিমুভেবল বা অপসারণযোগ্য ব্যাটারি অত্যন্ত উপযোগী, কারণ গাড়ি পার্কিংয়ে না রেখেই ঘরের ভেতরে সাধারণ সকেটে এটি চার্জ দেওয়া সম্ভব। ব্যাটারিটি পুরোপুরি ফুল চার্জ হতে সময় নেয় মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা এবং কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এই স্কুটারটি অনায়াসে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। এছাড়া ব্যাটারির সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এতে অটো-কাট ফিচার দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ চার্জ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে এটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। রাইডারদের সুবিধার জন্য এতে ইকো, স্পোর্ট এবং হাই—এই তিনটি আলাদা রাইডিং মোড তো থাকছেই, পাশাপাশি রিভার্স গিয়ার, পার্কিং মোড, অ্যান্টি-থেফট লক এবং মোবাইল চার্জিংয়ের জন্য একটি ইউএসবি পোর্টও যুক্ত করা হয়েছে।
আধুনিক যুগের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই ই-স্কুটারে চমৎকার সব সেফটি এবং পারফরম্যান্স ফিচার্স রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে একটি শক্তিশালী বিএলডিসি (BLDC) মোটর, যা জল থেকে সুরক্ষিত থাকার কারণে বর্ষার দিনেও নির্বিঘ্নে চালানো যায়। নিরাপত্তার জন্য সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেক এবং পেছনের চাকায় ড্রাম ব্রেকের নিখুঁত কম্বিনেশন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আধুনিক ডিজিটাল ডিসপ্লে, টিউবলেস টায়ার এবং সামনে আকর্ষণীয় এলইডি ডিআরএল (DRL) এর লুককে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মাত্র ৭০ কেজি ওজনের এই হালকা স্কুটারটি ভিড় রাস্তার মাঝে পার্কিং করা বা ট্রাফিকের মধ্যে হ্যান্ডেল করা অত্যন্ত সহজ। তবে ফুড ডেলিভারি বা দৈনন্দিন ছোটখাটো errands-এর জন্য এটি আদর্শ হলেও কেনার আগে অবশ্যই ব্যাটারির অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি এবং আফটার-সেলস সার্ভিসিংয়ের বিষয়টি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো এই ই-স্কুটারের অবিশ্বাস্য মূল্যছাড়। সাধারণত এই প্রিমিয়াম মডেলটির আসল বাজারদর ১ লক্ষ টাকার কাছাকাছি হলেও, বর্তমানে জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজনে বিশেষ ৫০ শতাংশ ছাড় বা ফ্ল্যাট ডিসকাউন্ট চলছে। এর ফলে মাত্র ৫০ হাজার টাকার অবিশ্বাস্য বাজেটে এই স্কুটারটি নিজের করে নেওয়া সম্ভব। এমনকি যাঁদের একসঙ্গে পুরো টাকা দিতে সমস্যা রয়েছে, তাঁরা চাইলে প্রতি মাসে মাত্র ২,৪২৯ টাকার সহজ কিস্তি বা ইএমআই (EMI) স্কিমেও এটি বাড়ি নিয়ে আসতে পারেন। এর ওপর আবার কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জও নেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই অ্যামাজনে ১৫৩ জন ক্রেতা এই স্কুটারটিকে ৫-এর মধ্যে ৪.২ এর উচুঁ রেটিং দিয়ে এর কার্যকারিতার প্রশংসা করেছেন। ফলে বাজেট ফ্রেন্ডলি এবং লাইসেন্স-মুক্ত ই-স্কুটার কেনার এটিই সুবর্ণ সুযোগ।