খুন নাকি অন্য কিছু? রবিবার সকালে রেলের গুড সাইট এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার ঘিরে তুলকালাম!

রবিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক ঘটনা সামনে এসেছে। শহরের একটি উড়ালপুলের নিচ থেকে আনুমানিক এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছুটির দিনের সকালে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে হতবাক হয়ে যান। সাধারণ মানুষের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি ভাঙাচোরা ও পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে মৃতদেহটি টেনে-হিঁচড়ে পাকা রাস্তায় নিয়ে আসা হয়েছিল। এমনকি পাকা রাস্তার উপর দিয়ে ভারী কিছু টেনে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ দাগও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবকটিকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বর্তমানে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গিয়েছে যে, রেলের গুড সাইট সংলগ্ন ওই এলাকায় মাঝেমধ্যেই মালবাহী খালি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ট্রাকচালকদের অনেকেই বিশ্রামের জন্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পাশের ওই ভাঙাচোরা বাড়িটি ব্যবহার করতেন। রবিবার ভোরে বা সকালের দিকে হঠাৎই ওই এলাকার উড়ালপুলের নিচে এক যুবকের নিথর ও পচাগলা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। দেহ উদ্ধারের পর থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মৃত যুবকের আসল পরিচয় কী? তাঁর আকস্মিক মৃত্যু কীভাবে ঘটল? মৃত্যুর কতদিন বা কতক্ষণ আগে এই ঘটনা ঘটেছে? আর যদি এটি সত্যিই কোনো হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে তাঁকে ঠিক কোথায় এবং কোন উদ্দেশ্যে খুন করা হলো? বিশেষ করে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে রাস্তা পর্যন্ত চলে যাওয়া টানার স্পষ্ট দাগ এই পুরো মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা শম্ভু দাস জানিয়েছেন, মৃতদেহটিকে ঘরের ভেতর থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে টেনে বাইরে বের করা হয়েছে, কারণ রাস্তার উপর থাকা রক্তের বা ঘর্ষণের দাগ দেখে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই পচাগলা দেহটি আদতে কার, তা এখনও এলাকার কেউ চিনতে বা নিশ্চিত করতে পারেননি। এদিকে, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পাওয়া মাত্রই দুর্গাপুর কোকওভেন থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পচাগলা মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পাশাপাশি, মৃত যুবকের আসল পরিচয় খুঁজে বের করতে বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ডায়েরির তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত বা প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তার আগে যুবকের এই মৃত্যু খুন নাকি অন্য কোনো স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক কারণে ঘটেছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং আসল সত্য উদ্ঘাটন করতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।